প্রশ্নফাঁসের আলোচনার মধ্যে পরীক্ষা স্থগিত, পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদে নিয়োগ পরীক্ষা আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এদিকে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রে ফাঁসে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষাটি স্থগিত করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। 

এদিকে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ দেখা দেয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। অনেক পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র কেন্দ্রের সামনে ছিড়ে ফেলতেও দেখা যায়।

শনিবার সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকার দনিয়া কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে কোনো নোটিশ ছাড়াই পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রে আসা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। তারা দনিয়া কলেজের সামনে বিক্ষুব্দ হয়ে নানা স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করেন।

পঞ্চগড় ও রংপুর এলাকার কয়েকজন পরীক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে জানান, ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কষ্ট করে ২-৩ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে ঢাকায় এসে জানতে পারলাম পরীক্ষা স্থগিত। আর কারণ প্রশ্নফাঁস!

এদিকে মাহফুজা নামের এক পরীক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বাড়ি পঞ্চগড়। দুদিন আগে আমার গ্রামের বাড়িতে আম্মুর সাথে গিয়ে কয়েকজন জানান দেয় ২৫ লাখ টাকা দিলে আমার চাকরি কনফার্ম। তারা প্রশ্ন আগের রাতে দিয়ে দেবেন। এরপর লিখিত ও ভাইভায় তারা ব্যবস্থা করে দেবেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমিও একটা কেন্দ্র পরিদর্শনে ছিলাম। হঠাৎ করে অনিবার্য কারণবশত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। কেন বা কি কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে তা এখনো জানি না। পরবর্তী পরীক্ষা কবে কিংবা পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আগামী দুদিনের মধ্যে জানানো হবে।