নাঈম হাসানের ৩৫ রানের ক্যামিওতে আগের দিনের সংগ্রহে দ্বিতীয় দিনে কেবল ২৯ রান যোগ করতে পারল বাংলাদেশ। এদিনও তাইজুল-এবাদতদের পেসে ভোগালেন ইয়ামিন-সেলিমরা। এতে ৯২ ওভার ৩ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ থামল ৩৪৬ রানে।
দ্বিতীয় দিনের খেলার দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই নতুন বল হাতে নেয় আফগানিস্তান। নতুন বলের সুবিধা নিয়ে শুরুতেই চেপে বসে আফগান পেসাররা। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই নতুন বল নেয় আফগানরা। সেখানে প্রথম ওভারেই ফিরতে পারতেন নাঈম হাসান। ৮৫তম ওভারের তৃতীয় বলে ইয়ামিন দারুণ এক ইনসুইং ডেলিভারি ব্যাটকে পরাস্ত করে লাগে নাঈমের প্যাডে।
সেখানে জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিয় নেয় আফগানরা। তবে সেই রিভিউয়ে বল স্ট্যাম্পের মাথায় লাগলেও আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান নাঈম। সেই জীবন পেয়ে টেল-এন্ডার এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে ৬৭ বলে ৪টি চারে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
তবে অন্য প্রান্তে তাকে সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি তাইজুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন। ৯ রান করে সেলিমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে তাইজুল বিদায় নেওয়ার পর রানের খাতা না খুলেই ফেরেন এবাদত। তাতেই সাড়ে তিনশ পেরোনোর আগেই থেমে যায় নাজমুল হোসেন শান্তদের প্রথম ইনিংস। আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন সেলিম, আর তিনটি উইকেট শিকার করেন ইয়ামিন।
এর আগে প্রথম দিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম খেলেন ওয়ানডে মেজাজের ইনিংস। মাত্র ৪১ বলে ফিফটি ছোঁয়া তানজিদ শেষ পর্যন্ত ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭১ বলে ৮৩ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলে সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নেন।
তানজিদের বিদায়ের পর আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম ইনিংসের হাল ধরেন। ১৫ রানে জীবন পাওয়া সাদমানকে চমৎকার সঙ্গ দেন মুমিনুল হক। তাদের ৬০ রানের জুটি ভাঙার আগে ১১১ বলে ৭টি চারে ৬৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন সাদমান।
তবে দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে খেই হারায় শান্ত-মুশফিকরা। পেসার ইয়ামিন ও লেগ স্পিনার কায়েস আহমেদের তোপে মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে বিদায় নেন মুমিনুল (৩৯), শূন্য রানে মুশফিকুর রহিম এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (২৯)। এতে ২ উইকেটে ২২১ রান থেকে একলহমায় ৫ উইকেটে ২২৫ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ।
পরবর্তীতে সেই বিপর্যয় সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে দলীয় ২৮৭ রানের মাথায় ইসমত আলমের বলে মিরাজ (২৪) বোল্ড হয়ে ফিরলে আবারো চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে টানা তিন ইনিংসে 'ডাক' মারার খরা কাটিয়ে এ ম্যাচে রানের দেখা পান লিটন। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৮৯ বলে ৫৩ রানের হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে প্রথম দিন শেষ করার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। সেখানে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান তুলে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল শান্তর দল। আর দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাকি দুই উইকেটে ৫০ বল খেলে সেই খাতায় যোগ হলো ২৯ রান।