ইউরো ২০২৪-এ তুরস্ককে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নায়ক বনে গিয়েছিলেন কোচ ভিনসেনজো মন্তেলা। অথচ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই ভালোবাসার রথ থমকে গিয়ে চরম বিষাদে রূপ নিলো; এক নিমেষেই হিরো থেকে জিরো বনে গেলেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। নেশনস লিগে টানা চার হারের লজ্জাজনক পারফরম্যান্স এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার বলয় থেকে দলকে বের করতে না পেরে অবশেষে বরখাস্তের তকমা গায়ে মেখেই তুর্কি ফুটবলের ড্রেসিংরুম ছাড়তে হলো তাকে।
সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ অত্যন্ত আশাজাগানিয়া পারফরম্যান্স দিয়ে দায়িত্ব শুরু করলেও সাম্প্রতিক সময়ে দলের চরম নিম্নমুখী পথ আটকাতে পারেননি ৫২ বছর বয়সী এই কোচ। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ জিতলেও গ্রুপ পর্ব থেকে সবার আগে বিদায় নেওয়ার কলঙ্ক গায়ে মাখে তুর্কিরা। এরপর নেশনস লিগের চলতি আসরে বেলজিয়ামের কাছে ৩-০, ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ এবং ইতালির কাছে জোড়া পরাজয়ে একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়েন মন্তেলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কোনো বিলম্ব না করে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে তুর্কি ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ)।
তুর্কি ফুটবল ফেডারেশন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি জানায়, ‘জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে জনাব ভিনসেনজো মন্তেল্লার সঙ্গে চুক্তি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
অথচ চাকরি হারানোর ঠিক আগের মুহূর্তেও হার মেনে নিতে চাননি মন্তে লা। বরং ঘুরে দাঁড়ানোর সাফাই গেয়ে নিজের শিষ্যদের রক্ষায় ইতালির বড় বড় তারকাদের সঙ্গে নিজ দলের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবধানকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।
ইতালির বোলোনিয়াতে পরাজয়ের পর দলের পারফরম্যান্স ও ইতালির স্কোয়াড ডেপথ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্তেলা বলেছিলেন, ‘হতাশা? আমি নিশ্চিত নই হতাশা সঠিক শব্দ কি না, তবে আমরা সত্যিই একটি ভালো ম্যাচ খেলেছি। আমরা সমানে সমানে লড়াই করেছি এবং বলতে গেলে হয়তো সামান্য বেশিই করেছি। শুধু নির্দিষ্ট কিছু ভুলে তিন গোল খেয়েছি আমরা। কোচ হিসেবে ছেলেদের মনোভাব ও ব্যক্তিত্বে আমি সন্তুষ্ট।’
ইতালির ফুটবল কাঠামোর বিপুল শক্তিমত্তা ও খেলোয়াড়দের বাজারমূল্যের ব্যবধান নিয়ে যুক্তি তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেছিলেন, ‘ইতালির বদলি খেলোয়াড়দের দিকে যদি তাকান, কালাফিওরি, এসপোসিতো ও টোনালি; মাঠে নামা খেলোয়াড়দের মোট বাজারমূল্যই হয়তো ছিল ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো। এই জায়গায় আমি কারও দোষ দেখি না, বিশেষ করে আমার ফুটবলারদের তো নয়ই; যারা এই স্তরের দলের বিপক্ষে কৌশলগত ও কারিগরিভাবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে।’
ইউরোর সেই সোনালী স্মৃতি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাওয়া মন্তেল্লার বিদায়ের পর এবার নতুন পথ খোঁজার পালা তুরস্কের। নভেম্বরের উইন্ডোতে বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে অগ্নিপরীক্ষায় নামার আগেই নতুন কোচের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে তড়িঘড়ি শুরু করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদে, তবে মেসির প্রেমে সমর্থনটা বার্সেলোনায়