সমীকরণের অঙ্কে ভরাডুবি বাংলাদেশের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ এএম

ফাইনালে ওঠতে শুধু জিতলেই হতো না, আফগানিস্তানকে হারাতে হতো অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজের এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সমীকরণ অঙ্ক মেলানো তো দূরের কথা, ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচটাই হেরে গেছে বাংলাদেশ দল৷ শুরুতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানে, এবার আফগানদের কাছে ৭ উইকেটের পরাজয়। টানা দুই ম্যাচ হেরে বিদায় নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবারের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর থেকে জয়হীন থেকে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশক দলকে।

ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পুরোনো গল্পের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় লক্ষ্য দিতে পারেনি বাংলাদেশ। গতকাল শারজায় আগে ব্যাট করে মাত্র ১৬০ রানেই অলআউট হয়ে যায় তাওহীদ হৃদয়ের দল। জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে, ৮৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। দলটির হয়ে রহমত শাহ ৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি রান ব্যবধানের হিসাবও মাথায় রাখতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সে লক্ষ্য সামনে রেখে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক হৃদয়। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশের ইনিংস। আফগান পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপরীতে দাঁড়াতেই পারেননি টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা।

ইয়ামিন আহমদজাইয়ের দ্বিতীয় ওভারে টানা দুই বলে বিদায় নেন তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। তামিম করেন ১ রান, সৌম্য ফিরেন শূন্য হাতে। এরপর আজমাতউল্লাহ ওমরজাইয়ের আঘাতে সপ্তম ওভারের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক হৃদয়। শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান, হৃদয়ও রানের খাতা খুলতে পারেননি। মাত্র ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে তখন চরম বিপর্যয়ে বাংলাদেশ।

এমন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। লিটন দাসের চোটে দলে ডাক পাওয়া ইমন একাদশে সুযোগ পেয়ে শুরু থেকেই উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করেন। অন্য প্রান্তে সাইফও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তাকে সঙ্গ দেন। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯২ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা স্থিতি ফেরায়। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, এই জুটি ভর করে অন্তত লড়াই করার মতো সংগ্রহ গড়তে পারবে দল।

কিন্তু ৮২ বলে ৪১ রান করে সাইফের বিদায়ের পর আবারও ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। মেহেদী হাসান মিরাজও ইনিংস বড় করতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলেও এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন ইমন। ৯৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর নিজের আগের সর্বোচ্চ ৬৭ রানের ইনিংস ছাড়িয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭০ রান করে আউট হন এই ব্যাটসম্যান। দলীয় ১৫৬ রানে অষ্টম উইকেট হিসেবে তার বিদায়ের সঙ্গে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।

শেষ দিকে রশিদ খানের ঘূর্ণিতে দ্রুত গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। অভিষিক্ত আলিস আল ইসলামকে শূন্য রানে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট পান রশিদ। পরের বলেই মোস্তাফিজুর রহমানকে বোল্ড করে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি। ৪১ ওভার ২ বলে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের হয়ে চার উইকেট নিয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ।

১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুতে কিছুটা সতর্ক ছিল আফগানিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে নতুন বলে তাসকিন আহমেদ চেষ্টা করেন দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে। তার বলে আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে রাহমানউল্লাহ গুরবাজ শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। আট বলে এক চারে ৬ রান করেন গুরবাজ।

এরপর আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা সেদিকউল্লাহ আতালকেও বেশিক্ষণ থাকতে দেননি তাসকিন। একটি বাউন্ডারি মারার পরের বলেই স্টাম্প হারান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ১৩ বলে ৪ রান করে ফিরলে সাত ওভারে ৩৯ রানে দুই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে তখন ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই সম্ভাবনা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে নেন। দুজনের ৫৬ রানের জুটি আফগানিস্তানকে জয়ের পথে এগিয়ে দেয়। ৪৮ বলে দুই চারে ৩৪ রান করে ইব্রাহিমকে ফরয়ে জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার নিচু ফুলটসে ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় মিডউইকেটে। পেছনে সরে লাফিয়ে ক্যাচটি নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই আফগানিস্তানের হাতে চলে গেছে। রহমাত দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন ৬৬ বলে। পরে ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তার সঙ্গে ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত