মানুষ দুনিয়ায় নানা নেয়ামত ভোগ করে। সম্পদ, সামর্থ্য, জ্ঞান ও সম্মান তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তবে এসব নেয়ামত কেবল দুনিয়ার জীবনকে সুন্দর করার জন্য নয়। এগুলো কাজে লাগিয়ে পরকালের জীবনও সুন্দর করতে হয়। একজন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত, দুনিয়ার দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আখেরাতের স্থায়ী আবাসের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন, তা দিয়ে আখেরাতের আবাস অনুসন্ধান করো। আর দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না।’ (সুরা কাসাস ৭৭)
এই আয়াতে দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষকে যে সম্পদ ও সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে আখেরাতের কল্যাণ অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অভাবীদের সাহায্য করা, আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়া সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে।
ইসলাম দুনিয়ার জীবনকে অবহেলা করতে শেখায় না। বরং হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জন, পরিবারের ভরণপোষণ, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে দুনিয়ার মোহ যেন মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও আখেরাতের প্রস্তুতি থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
অনেকে সম্পদ অর্জনের পেছনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে, জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে যান। অথচ দুনিয়ার সম্পদ একদিন ছেড়ে যেতে হবে। সঙ্গে থাকবে নিজের আমল। তাই সম্পদ নিয়ে অহংকার না করে তা কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা উচিত। মানুষের উপকারে ব্যবহৃত সম্পদ আখেরাতের সাফল্য অর্জনের মাধ্যম হয়।
প্রতিটি মানুষের উচিত নিজের সময়, সম্পদ ও সামর্থ্যের হিসাব নেওয়া। এসব কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। দুনিয়ার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই মুমিনের লক্ষ্য। এভাবে দুনিয়ার জীবনও সুন্দর হবে, আখেরাতের আবাস গড়ার প্রস্তুতিও পূর্ণতা পাবে।