দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একান্ত প্রয়োজন না হলে সব ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বলেছেন বিচারপতিরা। খবর এনডিটিভির। 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশেষ অধিবেশনে বসে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে আদালত বলেছে, একান্ত প্রয়োজন না হলে সব ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারায় জারি করা বিধিনিষেধও প্রত্যাহার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, সুপ্রিম কোর্টের আশপাশেও ১৬৩ ধারায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়েছে। আদালতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের বাধা বা বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি না হয়, সে জন্য ওই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

বিচারপতিরা বলেন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যেতে পারে। তবে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে।

এর আগে শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ—যাঁদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা—কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ১০ অক্টোবর বিক্ষোভের কারণে দিল্লিতে আসা মেট্রো ও ট্রেন চলাচল যেন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া না হয়। আদালত বলেছিল, সবকিছু থামিয়ে দেওয়া যায় না।

তবে এরপরও মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় আপত্তি জানান মামলাকারী ও আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী। তাঁর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে, যা আদালত অবমাননার শামিল।

বিশেষ শুনানিতে আইনজীবীদের উদ্বেগের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি করা না হয়।

একই সঙ্গে বিচারপতিরা আইনজীবীদেরও সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বিষয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন হলে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। মানুষকে উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

আদালতের এই নির্দেশের মূল লক্ষ্য হলো—জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল, আদালতে প্রবেশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ নিশ্চিত করা।