জীবনে নানা সংকট ও অনিশ্চয়তা আসে। মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়। তখন দোয়া, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভরসা মানুষকে মানসিক শক্তি জোগায়। সব পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ বান্দাকে তার কাছে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির ৬০)
আল্লাহর প্রতি বান্দার বিশ্বাস, ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রকাশ ঘটে দোয়ার মাধ্যমে। মানুষ যখন দোয়ার জন্য হাত তোলে, তখন সে স্বীকার করে যে, তার সামর্থ্য সীমিত এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। এই উপলব্ধি মানুষের অন্তরে বিনয় সৃষ্টি করে। অহংকার দূর করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করে।
মানুষের জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন চারপাশের সব পথ বন্ধ মনে হয়। প্রিয়জনের অসুস্থতা, জীবিকার সংকট, পারিবারিক অশান্তি কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।
কখনো মানুষ নিজের কষ্ট অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন থাকে না। তিনি মানুষের প্রকাশ্য ও গোপন সব অবস্থা জানেন। তাই বান্দা তার কাছে নিজের দুঃখ, কষ্ট, ভয় ও প্রয়োজনের কথা বলে। দোয়ার মাধ্যমে সে মানসিক প্রশান্তি লাভ করে এবং নতুন করে আশাবাদী হওয়ার শক্তি পায়।
দোয়া করার সময় বান্দার অন্তরে আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন। শুধু মুখে কিছু শব্দ উচ্চারণ করাই দোয়ার পূর্ণতা নয়। বরং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে, নিজের অসহায়ত্ব উপলব্ধি করে এবং তার রহমতের আশা নিয়ে দোয়া করতে হয়। নিজের পাপের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়। ভুল পথ থেকে ফিরে আসার তওফিক কামনা করতে হয়। একই সঙ্গে নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য দোয়া করা উচিত।
তবে দোয়া করার অর্থ এই নয় যে, মানুষ নিজের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবে। কেউ জীবিকার জন্য দোয়া করলে তাকে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে। অসুস্থ হলে সুস্থতার জন্য দোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে হবে। কোনো সমস্যার সমাধান চাইলে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কারণ ইসলামে দোয়া ও চেষ্টা পরস্পরের পরিপূরক। আল্লাহর ওপর নির্ভর করার অর্থ নিজের কর্তব্য ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে ফলাফলের জন্য তার ওপর ভরসা করা।