কন্যাসন্তানকে অবহেলা নয়

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, প্রত্যেকেই মা-বাবার জন্য মহান আল্লাহর দেওয়া অমূল্য উপহার। সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই। মহান আল্লাহ তার ইচ্ছা ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী সন্তান দান করেন। 

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।’ (সুরা শুরা ৪৯)

পরের আয়াতে মহান আল্লাহ জানান, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা শুরা ৫০)

কোরআনের এই বাণী মানুষকে সন্তান সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি শেখায়। পুত্রসন্তান জন্ম নিলে আনন্দিত হওয়া এবং কন্যাসন্তান জন্ম নিলে মন খারাপ করা ইসলামের শিক্ষা নয়। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, তা মানুষের ইচ্ছা কিংবা প্রচেষ্টায় নির্ধারিত হয় না। এটি মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত। তাই তার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা এবং প্রতিটি সন্তানের প্রতি সমান ভালোবাসা ও যত্ন প্রদর্শন করা মুমিনের দায়িত্ব।

ইসলাম কন্যাসন্তানকে অবহেলা করার অনুমতি দেয়নি। বরং তাদের যথাযথ লালন-পালন, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। জাহেলি যুগে কন্যাসন্তান জন্মকে অনেকে অপমানের বিষয় মনে করত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে তাদের এই মানসিকতার নিন্দা করেছেন।

সন্তানকে শুধু নিজের বংশধর হিসেবে দেখলে চলবে না। তাকে সৎ, আদর্শবান ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও মা-বাবার কর্তব্য। ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য নৈতিক শিক্ষা, দ্বীনি জ্ঞান এবং সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি না করে ভালোবাসা ও ন্যায়বিচারের চর্চা করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, সন্তানের প্রকৃত মর্যাদা ছেলে বা মেয়ে হওয়ার মধ্যে নয়, বরং তার চরিত্র, নৈতিকতা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যে। সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, প্রত্যেকের যথাযথ অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই মা-বাবার অন্যতম দায়িত্ব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত