ঘরেতে পূজার আমেজ

কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার আমেজ স্থান ও বয়স অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হবে। বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো বা দলবেঁধে পূজা দিতে যাওয়ার আনন্দই আলাদা। পূজায় বাইরে তো ঘুরলেন কিন্তু ঘরের সাজের কথাও মাথায় রাখতে হয়। দুর্গাপূজায় ঘরের সাজ কেমন হবে জানালেন ক্রিয়েশনের ইন্টেরিয়র ডিজাইনার রেবতী সাহা

এবারের পূজায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুরা তো বাড়িতে আসবেই। সে কথা মাথায় রেখে বাড়ির সাজসজ্জায় মনোযোগ দিন। সদর দরজায় ঝালরের পেলমেট বা মরিচবাতি ঝুলিয়ে দিতে পারেন। বসার ঘরে পূজা উপলক্ষে টেরাকোটা বা মাটির তৈরি থিমেটিক সামগ্রী দিয়ে সাজাতে পারেন। বসার ঘরের মেঝেতে কার্পেট উঠিয়ে  কয়েক ধরনের রং দিয়ে  বা ফুল দিয়ে আঁকতে পারেন আলপনা। টাইলসের মেঝে হলে রঙের আলপনা না করে ফুলের পাপড়ি দিয়ে আলপনা করে তার চারপাশ প্রদীপ দিয়ে সাজাতে পারেন। পানিভর্তি মাটি বা কাঁসার পাত্রে ফুল ও প্রদীপ রেখে ঘরে আনতে পারেন পূজার আমেজ। তাজা ফুল দিয়ে ফুলদানিও সাজাতে পারেন। বসার ঘরের সোফা, পর্দা ও কুশনের ফেব্রিক বাছাইয়ের সময় উজ্জ্বল রঙকেই প্রাধান্য দিন। দেশীয় ফোক মোটিফ বেছে নিতে পারেন।

পূজা উপলক্ষে যদি ঘরে আরও একটু ঐতিহ্যের আমেজ আনতে চান, তবে বসার ঘরের এককোণে বিছিয়ে দিতে পারেন শীতল পাটি বা শতরঞ্জি। আর সেইসঙ্গে বাঁশ, বেত বা রঙিন কাগজের তৈরি ল্যাম্পশেড কিংবা দেশীয় উপকরণের ঝারবাতি বা উইন্ডচাম দিয়ে সাজাতে পারেন। পূজায় ঘরের সাজে ফুলের বিকল্প নেই। তাই চেষ্টা করুন তাজা ফুল দিয়ে কয়েক রকমের ফুলদানি সাজাতে পারেন। সিঁড়ির এক কোণে কিংবা ঘরের ভেতরে ঢোকার প্রবেশপথে পানিভর্তি মাটির পাত্র সাজিয়ে নিন নানা রঙের ফুলের পাপড়ি দিয়ে। পূজার দিনগুলোতে অতিথি আপ্যায়নে নিত্যদিনকার চীনামাটির বাসন-কোসন বাদ থাক। সম্ভব হলে কাঁসা কিংবা পিতলের থালা-বাসন কিংবা মাটির বাসন-কোসন ব্যবহার করুন খাবার পরিবেশনে।

 প্রদীপের আলো ছাড়া পূজার আমেজ পাওয়া যায় না। বাজারের নানা রকমের প্রদীপ পাওয়া যায়। এই প্রদীপ দিয়ে পুরো বাড়ি সাজাতে পারেন অতিথি আসার আগে। আর যদি প্রদীপ না পান তবে নানা রকমের রঙিন মোম দিয়েও বাড়ি সাজিয়ে নিন। বসার ঘর বা করিডরে পাপড়িভর্তি মাটির পাত্রে ফ্লোটিং ক্যান্ডেল দিয়ে দিন। ঘরের কোণে বড় মোমবাতি স্ট্যান্ড বসিয়ে তাতে কয়েকটা রঙিন মোমবাতি রাখুন। পূজায় অতিথি আপ্যায়নে লিভিং রুম বা বসার ঘরের মেঝেতে শীতল পাটি বিছিয়ে খাবারের আয়োজন করতে পারেন। ব্যতিক্রম চাইলে বাড়ির ছাদেও আড্ডা গল্প গানের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের আয়োজন করা যায়।