ঢাবিতে ৭ শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় প্রক্টর অফিস ঘেরাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে ২০২৩-২০২৪ সেশনের সাদমান সাকিব নামে এক শিক্ষার্থীর গাড়িচাপায় সাত শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রক্টর অফিস ঘেরাও করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১২টা থেকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রক্টরকে অফিসে না পাওয়া এবং একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে না পারায় এ কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হন। অভিযুক্ত সাদমান সাকিব ২০২৩-২০২৪ সেশনের ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশনের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)গণিত বিভাগের শিক্ষক এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শহিদুল ইসলামের ছেলে। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। এ কারণে তারা পুনরায় প্রক্টর অফিসে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সেখানে প্রক্টরকে না পেয়ে এবং একাধিকবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

আহত শিক্ষার্থীদের সহপাঠী জোনায়েদ বলেন, গতকাল আমার বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থীর ওপর গাড়ি চাপা দেওয়ার পরও প্রক্টর বলছেন, সে ভুলবশত অন্যায় করেছে। আমরা যখন তাৎক্ষণিক বিচারের দাবিতে যাই, তখন প্রক্টর বলেছিলেন, ও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করতাম। কিন্তু পরবর্তীতে যখন জানতে পারেন, ও এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী, তখনই উনি সুর পাল্টে ফেলেন এবং বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সিসিটিভি ফুটেজের দাবি জানিয়েছিলাম। তারা প্রশাসনিক নীতিমালার দোহাই দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দিতে অস্বীকার করে। বেলা ১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রক্টর অফিসে আন্দোলন করার পর সিদ্ধান্ত হয়, অভিযুক্তের নামে মামলা দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী আমরা শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নিয়ে তাদের সঙ্গে থানায় যাই। আমরা দেখি, তারা আমাদের বাইরে রেখে উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে নেগোসিয়েশন করেন। পরবর্তীতে মামলা নেওয়া হয়নি।

জোনায়েদ বলেন, আমরা তার প্রেক্ষিতেই আজকের এই কর্মসূচি দিয়েছি। কিন্তু দেখেন, এখনো প্রক্টরের কোনো খোঁজ নেই। কল দিলেও রিসিভ করেন না। আমরা শিক্ষার্থীরা বলতে চাই, আপনি যদি আপনার দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, আপনি পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ, আমরা কোনো নেগোসিয়েশন চাই না, আমরা চাই সঠিক বিচার।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করা, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রকাশ, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার, মামলা দায়ের ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ যানবাহন চলাচলে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে এক সহকারী প্রক্টর বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের চিকিৎসার খরচসহ যাবতীয় দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধীর বিচার নিশ্চিত হবে।

প্রক্টরের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে প্রক্টর উপস্থিত হতে পারেননি। তবে তিনি বিকেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দূর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা হলেন ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম তাহা, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল মুনতাহা। এ ছাড়া ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়াও আহত হয়েছেন।