ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কারফিউ ভঙ্গ করে সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এসময় তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়লেও এক দফার দাবিতে সংহতি সমাবেশ শেষ করেন।
সোমবার (৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রামটি শহীদ মিনারে থাকলেও সেখানে সংঘর্ষ চলায় রাজুতে করেন শিক্ষকরা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আজকের এই পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ি। আমরা এক দফার প্রতি সংহতি জানাই এবং এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। আমরা কারফিউ ভঙ্গ করেছি, এটা করার দরকার। কারফিউ ভঙ্গ না করে কখনো জনগণের দাবি পূরণ হয় না।
সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকে আমরা ছাত্রদের সঙ্গে আছি। যতক্ষণ না দাবি দায় না হয় আমরা তাদের সাথে আছি। এই কারফিউ আমরা প্রত্যাখান করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হয়, শিক্ষক সমাজ বসে থাকবে না। সে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। আজও আমরা সে সংহতি প্রকাশের জন্য ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দাঁড়িয়েছি। আমরা ছাত্রদের পাশে আছি, এল দফার প্রতি সংহতি জানাচ্ছি।
অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, শহীদদের প্রতি সহমর্মিতা জানানোর জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। আর কোনো রক্তপাত নয় আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি। এত হত্যাকাণ্ড পৃথিবীতে কোনো আন্দোলনে হয়নি। আপনারা ছাত্রদের ভাষা বুঝুন, ছাত্রদের এক দফার সাথে সংহতি প্রকাশ করুন।
পুলিশের উদ্দেশ্য করে অধ্যাপক আখতার হোসেন খান বলেন, আপনারা জনতার পাশে দাঁড়ান। অনুগ্রহ করে গুলি করবেন না। আমরা চাই না কোনো মায়ের কোল খালি হোক। আমরা চাই শান্তি। আমরা বিবেকের তাড়নায় এখানে দাঁড়িয়েছি। এদেশের মানুষের দাবি আদায়ের জন্য দাঁড়িয়েছি।
সমাবেশ শেষে শিক্ষকরা মিছিল করতে চাইলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। মিছিল না করা এবং বাসায় ফিরে যাওয়া শর্তে তাদের যেতে দেওয়া হয়। পুলিশও তাদের পেছন পেছন ছিল।
