শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। আজ পঞ্চমী তিথিতে দেবীর পূজার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। আগামীকাল ষষ্ঠীতে দুর্গা দেবীর বোধন (জাগরণ) আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন হবে। এদিন সন্ধ্যায় বেলগাছতলে (বিল্ববৃক্ষ) দেবীর আবাহন, সংকল্প ও ‘ত্রিনয়নী’ দুর্গা দেবীর নিদ্রা (বোধন) ভাঙিয়ে পূজা-অর্চনায় তাকে বরণ করা হবে। আগামীকাল থেকে ঢাকের বোল, চ-ি ও মন্ত্রপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে পূজাম-পগুলো। ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মাধ্যমে সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পূণ্য লগ্ন বা ‘দেবীপক্ষ’র শুরু হয়। ওই দিন দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে পা রাখেন।
ঢাকেশ^রী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত প্রণব চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন দেবী দুর্গার নিদ্রাকাল চলছে। আগামীকাল ষষ্ঠীতে তার নিদ্রাভঙ্গ (বোধন) করা হবে। এরপর দেবীকে পূজার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস হবে। এরপরই দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে যাবে।’
সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, মহালয়ার পরে শুরু হয় দুর্গা
পূজার আনুষ্ঠানিকতা। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামীকাল ২৮ আশি^ন (১৬ অক্টোবর) শুক্রবার ষষ্ঠী পূজা। এরপর শুরু হবে দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এবার সুর্যোদয়ের সঙ্গে তিথির সম্পর্কের কারণে মহাসপ্তমী পূজা হবে দুই দিনে। ২৯ আশি^ন (১৭ অক্টোবর) শনিবার ও ৩০ আশি^ন (১৮ অক্টোবর) রবিবার এ দুই দিন মহাসপ্তমী, ১ কার্ত্তিক (১৯ অক্টোবর) সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, ২ কার্ত্তিক (২০ অক্টোবর) মঙ্গলবার মহানবমী অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩ কার্ত্তিক (২১ অক্টোবর) বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজার ছয়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজাম-পে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গতবারের চেয়ে এবার প্রায় দেড় হাজার বেশি পূজামন্ডপ বেড়েছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে ইতিমধ্যে আয়োজকদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সারা দেশের ম-পগুলোতে ইতিমধ্যে প্যান্ডেল স্থাপন ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে।