৩ ঘণ্টা পর উত্তরায় অবরোধ তুলে নেন পোশাক শ্রমিকরা

রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরোধের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা বেতন বাড়ানোর দাবিতে উত্তরার আজমপুর, রাজলক্ষ্মী এলাকায় বেশকিছু পোশাক কারখানার সহস্রাধিক শ্রমিক এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তীব্র যানজটে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য সাবেক সদস্য সচিব হাজি মোস্তফা জামান নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে মানুষের দুর্ভোগ না ঘটাতে আন্দোলনকারীদের প্রতি অনুরোধ জানান। পরে দুপুর ১টার দিকে পোশাক শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক সদস্য আলাউদ্দিন সরকার টিপুসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহজাহান হোসেন বলেন, পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ কয়েকটি দাবিতে গত সোমবার থেকে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা  সড়কে বিক্ষোভ করছেন। এরপর বুধবার দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক শরিফা বেগম বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে হবে, নয়তো আমাদের মজুরি বাড়াতে হবে, যাতে আমরা জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে পারি। আরেক শ্রমিক বলেন, পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে তারা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। এ কারণে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রুবেল হক বলেন, গতকাল বুধবার সকালে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা আজমপুর এলাকায় সড়কে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে তারা বিমানবন্দরের দিকে সরে যান। তখন বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

অবরোধের সময় শ্রমিকরা তাদের বেতন বাড়ানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে অবরোধ শুরু করেন। গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অনেককে পায়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এর মধ্যে অনেকে ছিলেন বিদেশগামী যাত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে আজমপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মিছিল নিয়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শেষ করেন শ্রমিকরা।  এরপর থেকে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। অভিযোগ উঠেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খসরু চৌধুরীর মালিকানাধীন নিপা গার্মেন্টসসহ আওয়ামীপন্থি নেতাদের বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিক-কর্মচারীরা খসরু চৌধুরীর ইন্ধনে ও অর্থায়নে বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে এ অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার পর কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা উত্তরা এলাকার আজমপুর সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে তারা বিমানবন্দর সড়কের দিকে সরে গিয়ে অবরোধ চালিয়ে যান। দুপুরের দিকে উত্তরখান এলাকা থেকেও একটি বড় মিছিল এসে সড়কে অবস্থান নেয়। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।