রাশেদ খান বললেন

সারজিসকে বহিষ্কার হাসনাতকে শোকজ করেছিলেন নাহিদ

আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করায় সারজিস আলমকে বহিষ্কার এবং হাসনাত আব্দুল্লাহকে শোকজ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার দাবি, তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাদের বহিষ্কার ও শোকজ করেন। গতকাল বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন দাবি তোলেন রাশেদ খান। ওই পোস্টে তিনি ‘নেত্র নিউজ’-এর একটি সংবাদও শেয়ার করেছেন।

রাশেদ খান লিখেছেন, ‘জমিদারের নাতি সারজিস আলমকে নাহিদ ইসলাম বহিষ্কার করেন, আর হাসনাত আব্দুল্লাহকে শোকজ নোটিস দেন। ১৯ জুলাই, যেদিন সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়, সেদিন এরা শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আব্দুল কাদেরের ৯ দফাকে বানচাল করতে ৮ দফা কর্মসূচি প্রদান করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘লীগ-চাটা হাসনাত-সারজিস আজকে জামায়াতি জাতির আব্বা হয়ে গেছে। আর ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে আব্দুল কাদেররা।’

রাশেদ খানের দাবি, হাসনাত আব্দুল্লাহ সেদিন হাসিব আল ইসলামকে কল করে মেস থেকে নিয়ে যান আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে।

আরও অনেককে হাসনাত-সারজিস নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে বাকিরা বৈঠকে যাননি। গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগ থাকলেও অন্তত গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের সঠিক ভূমিকা ছিল। ‘সে সময় কিন্তু প্রকাশ্যে জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে ৯ দফাকে বানচাল করার ষড়যন্ত্রে নামেন জুলাই গাদ্দার হাসনাত-সারজিস।’

এর আগে মঙ্গলবার রাতে সারজিস আলমকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, ছাত্রলীগের একটা কর্মী পদের জন্য যে সারজিস আলম প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটতো, সেও আজকে আমাদের নিয়ে বড় বড় কথা বলে! শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকেও যার একটা পদ হয়নি, সেই পা-চাটা সারজিস আলম কোন লজ্জায় আমাদের নিয়ে কটাক্ষ করে?

গণঅভ্যুত্থানের সময় যার চুলের স্পাইক পর্যন্ত নষ্ট হয়নি, পাঞ্জাবির আয়রনের ভাঁজ পর্যন্ত ভাঙেনি, ডিবি অফিসে জুস খেতে খেতে যে ঘটনাচক্রে নেতা হয়ে গেছে, সেও আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আমরা নাকি ’১৮ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে আপস করে সরকার পতন না ঘটিয়ে শুধু কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি!

রাশেদ খান বলেন, আচ্ছা ধরেই নিলাম, আমরা আপস করেছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালের পর আমরা যে সময় শেখ হাসিনাবিরোধী লড়াইয়ে নেমেছি, ক্যাম্পাসে অসংখ্যবার মার খেয়েছি, তখন এই সারজিস আলম শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডাকতে ডাকতে ফেনা তুলে ফেলেছে!

জুলাই গাদ্দার সারজিস আলম শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে, এটা কি জাতি ভুলে গেছে? জাতি কি ভুলে গেছে, নাহিদ-আসিফকে তুলে নেওয়া কিংবা ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পরও কারফিউয়ের মধ্যে সারজিস- হাসনাত গোয়েন্দা সংস্থার গাড়ি করে ঘুরে বেড়িয়েছে!