বিমানবন্দরের ২ চুক্তিতে ব্যয় বাড়ছে ৭৬৬ কোটি টাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ও পরামর্শক সেবা-সংক্রান্ত পুরনো দুটি চুক্তির ভ্যারিয়েশন ব্যয় বাড়ছে ৭৬৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি ইউরিয়া, এমওপি ও ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। আর ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এই কাজে মেঘনা সুগার রিফাইনারিকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিমানবন্দরের চুক্তি সংশোধন, সার ও চিনি কেনার এসব প্রস্তাবে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।

গত মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৪৯তম সভায় মোট ১২টি ক্রয়প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে ১৫ বছর মেয়াদে প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা অথবা ২০ বছর মেয়াদে প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে, একই দিনে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম সভায় এলএনজি নিয়ে দুটি প্রস্তাব আলোচনায় আসে। এলএনজি আমদানির আরও কয়েকটি প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এসব এলএনজি ক্রয়ের মোট ব্যয় নির্ধারণের মতো পূর্ণাঙ্গ মূল্য বা কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার ২৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মূল চুক্তিমূল্য ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৯ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ ৬ হাজার ৭২৪ টাকা। সংশোধিত চুক্তিমূল্য মূল চুক্তির চেয়ে ১.৭৫ শতাংশ বেশি। কাজটি করছে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম।

একই প্রকল্পের পরামর্শক সেবার চুক্তিমূল্য ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এতে মূল চুক্তিমূল্য ৭৭১ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৭ টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৭ টাকা। এ ক্ষেত্রে চুক্তিমূল্য বাড়ছে ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

ওই ২টি চুক্তির সংশোধিত মূল্য যোগ করলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২২ হাজার ১৩৬ কোটি ২ লাখ ৪ হাজার ১৮১ টাকা। তবে এর মধ্যে নতুন করে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে ৭৬৫ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার ২৫ টাকা।

সার আমদানিতে ব্যয় ১,৪৬৬ কোটি টাকা : শিল্প মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মোট ৮২ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির কথা রয়েছে। সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার টন সার কিনতে ব্যয় হবে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি টনের দাম ৪৪৬ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশনস লিমিটেডের কাছ থেকে ৪২ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার ২৯০ টাকা। প্রতি টনের দাম ৫৩১ দশমিক ৬৭ ডলার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিনটি এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবে ব্যয় হবে ৫৪৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪ হাজার ৮৫০ টাকা। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রডিনটর্গ থেকে ৩৫ হাজার টন সার কিনতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা। কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের কাছ থেকে দুটি লটে ৪০ হাজার টন করে সার কিনতে প্রতিটি লটে ব্যয় হবে ১৮৮ কোটি ৮৯ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া সৌদি আরবের মাআদেন থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি টনের দাম ৮৬১ দশমিক ৫০ ডলার। সব মিলিয়ে ছয়টি সার আমদানির প্রস্তাবে ব্যয় ১ হাজার ৪৬৫ কোটি ৯০ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪০ টাকা।

চিনি কিনতে ১০৩ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে ৫ হাজার টন করে মোট ১০ হাজার টন চিনি কেনার কথা রয়েছে। প্রথম প্রস্তাবে প্রতি কেজির দাম ১০২.৯৫ টাকা ধরে ব্যয় ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রতি কেজির দাম ১০৩.৯৫ টাকা ধরে ব্যয় ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ভ্যাট ও করসহ মোট ব্যয় ১০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এলএনজি ক্রয়ে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন

রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য পিপিএ-২০০৬ এর ধারা ৬৮ এবং পিপিআর-২০২৫ এর বিধি ১০৭, ৯৭ এবং ৯৮ অনুযায়ী সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির মাধ্যমে বিপি সিঙ্গাপুর প্রা. লি., সাহারা এনার্জি রিসোর্স লি. ও শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি ক্রয়ের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। প্রস্তাবটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দিয়েছে। এ ছাড়া, জিটুজি ভিত্তিতে ট্রাফিগুরা প্রা. লি. কর্তৃক ডিসেম্বর ২০২৬ হতে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত মোট ৯ (নয়) কার্গো এলএনজি বা প্রয়োজনে দুই পক্ষের সম্মতিতে এর কম বা বেশি সংখ্যক এলএনজি কার্গো ক্রয়ের নিমিত্ত দর প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। প্রস্তাবটি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রস্তাব প্রত্যাহার

মহেশখালীর কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনে চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির দরপ্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১৫ বছর মেয়াদে এই প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং ২০ বছর মেয়াদে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়।