ইয়েমেনের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনে অবস্থিত আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবারের (১৫ অক্টোবর) এ হামলায় প্রাসাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। খবর আনাদোলু।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে ইয়েমেন সরকারের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। হামলার সময় প্রাসাদের ভেতরে সরকারের কয়েকজন সদস্য অবস্থান করছিলেন।
হামলার পর ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আল-মাশিক প্রাসাদের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
ইয়েমেনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, হুথিরা দেশটির মারিব শহরের আবাসিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করেও বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে সংস্থাটি জানায়, প্রাসাদের আশপাশের এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িঘরেও গোলাবর্ষণ করেছে হুতিরা।
অন্যদিকে, হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহ অজ্ঞাতনামা এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রাসাদে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে হামলার বিস্তারিত জানায়নি তারা।
জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এ ধরনের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা এডেনে ‘সৌদি সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক উপস্থিতির যেকোনো স্থাপনাকে হামলার বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে হুথিরা।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নিলে দেশটিতে সংঘাতের সূত্রপাত হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রাজধানী ছাড়তে বাধ্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।
২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা ভেঙে যাওয়ার পর গত জুলাইয়ে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়। সর্বশেষ এই হামলার মধ্য দিয়ে দেশটিতে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।