প্রথম নারী প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক নাহরিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানকে প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় যুগ পর এই প্রথম একজন নারী প্রধান পেল তথ্য কমিশন। তথ্য কমিশনে অন্য দুই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক এস.এ.এম মাহফুজুর রহমান এবং খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯' এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর করার কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের পদর্মযাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক সুবিধাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়া তথ্য কমিশনে নতুন নিয়োগ হওয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটি আবারো সচল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহন করার চার মাস পর গত ৯ জুলাই তথ্য কমিশন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন করে বাছাই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃতে¦ ৫ সদস্যের ওই বাছাই কমিটিতে ছিলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। এর মধ্যে গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহনের দিনই আন্দালিভ রহমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। ফলে বাছাই কমিটির কোরাম সংকট দেখা দেয় এবং তথ্য কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে যায়। পরে জামালপুর-৩ আসনের এমপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে বাছাই কমিটিতে যুক্ত করায় আবারো কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়।

বাছাই কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’অনুযায়ী বাছাই কমিটি প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে প্রাপ্ত আবেদনপত্রগুলোর মধ্য থেকে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজন করে ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ করবেন।

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তথ্য কমিশন গঠিত হয়। কোনো ব্যক্তি তথ্য চেয়ে না পেলে কমিশনে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগের শুনানি শেষে কমিশন জরিমানা আরোপ, ক্ষতিপূরণ প্রদান কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে। ওই তথ্য অধিকার আইনের আওতায় মানুষের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গঠিত তথ্য কমিশন বিগত দুই বছরের বেশি সময় ধরেই কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগের শুনানিও বন্ধ রয়েছে।