মহাকাশ যুদ্ধের শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা

বর্তমানে সারা বিশ্বের জীবনের মান উন্নয়নে অনেকাংশেই স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিশেষজ্ঞরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মহাকাশে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করছেন। এজন্য বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছেন তারা। 

ইতোমধ্যে মার্কিন স্পেস ফোর্স প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করেছে গত মাসে। এমনকি চীনা স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে মহাকাশে মারামারি বা ডগফাইটিংয়ের দৃশ্য দেখা গেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে রাশিয়ার কক্ষপথে একটি পারমাণবিক ডিভাইস রয়েছে।

সম্প্রতি লন্ডনে অ্যাস্ট্রোস্কেলের আয়োজিত এক সভায় কিংস কলেজ লন্ডনের ফ্রিম্যান এয়ার অ্যান্ড স্পেস

ড. জুলিয়া বালাম বলেন, মিত্র দেশগুলো প্রতিদিন মহাশূন্যে শত্রুদের দ্বারা ‘টার্গেটেড’ বা হুমকির শিকার হচ্ছে। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কক্ষপথে উপগ্রহের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে এবং সেগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পরিধি যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে, তাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কেবল এই জগতেই নয়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশ যদি মনে করে যে তারা স্যাটেলাইটগুলোকে অকেজো করে কেবল আমাদের সামরিক অভিযানই নয়, বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও ধ্বংস করে দিতে পারে, তবে আমাদের বুঝতে হবে মহাশূন্যকে তারা বলপ্রয়োগের একটি আকর্ষণীয় মাধ্যম হিসেবে দেখছে এবং আমাদেরও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।’

২০২২ সালে রাশিয়া 'কসমস ২৫৫৩' নামের একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে, যা মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে পারমাণবিক ডিভাইসের অংশ বহন করতে পারে। মহাকাশে পরমাণু অস্ত্র বিস্ফোরিত হলে তা বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা ও উচ্চ শক্তির কণা ছড়াবে, যা পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা বিপুল পরিমাণ স্যাটেলাইট চিরতরে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং কক্ষপথগুলোকে ব্যবহারের অযোগ্য করে তুলবে। খবর এনডিটিভি, টেলিগ্রাম।

চীনের ‘শেনলং’ মহাকাশযানকে কক্ষপথে বস্তু ধরে ফেলার মহড়া দিতে দেখা গেছে। চীনা স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে নিজেদের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ এবং একে অপরের খুব কাছাকাছি (কয়েক ফুট দূরত্বের মধ্যে) এসে অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

অ্যাস্ট্রোস্কেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিক শেইভজানান, ২০১৩ সালে কক্ষপথের সার্ভিসিংয়ের জন্য কোম্পানিটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন তাদের কোনো সামরিক উদ্দেশ্য ছিল না। তবে ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত প্রতিরক্ষা পর্যালোচনায় (এসডিআর) মহাকাশে যুদ্ধের আশঙ্কার কথা বলা পর তারা দিক পরিবর্তন করেন।