ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছে যাবে তেলাপোকা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

ভূমিকম্প বা ভবন ধসের মতো দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করতে তেলাপোকার পিঠে ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও চিকিৎসা সামগ্রী বসিয়ে এক অভিনব সাইবর্গ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা।

২০২৬ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত এক গবেষণায়, ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড এবং ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (ইউএনএস ডাব্লিউ)-এর গবেষকরা এই বিশেষ দূরনিয়ন্ত্রিত তেলাপোকা তৈরি করেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যারাবর্গ’।

গবেষণার জন্য উত্তর কুইন্সল্যান্ডের স্থানীয়  বান্দরবান মেতেছে মধু পূর্ণিমা উৎসবে ‘জায়ান্ট বুরোয়িং ককরোচ’ বেছে নেওয়া হয়েছে। এগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভারি তেলাপোকা, যা লম্বায় প্রায় ৮ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার (৩ দশমিক ৩ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয় এবং ভারি জিনিস বহন করতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান। 

প্রাকৃতিক দক্ষতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে গবেষণায়। কারণ হিসেবে গবেষকরা মনে করেছেন সাধারণ রোবট যেখানে ধ্বংসস্তূপের সরু গলিপথে আটকে যায় বা ব্যাটারি ফুরিয়ে অচল হয়ে পড়ে, সেখানে তেলাপোকারা সহজেই যেকোনো সংকীর্ণ জায়গায় যাতায়াত করতে পারে এবং এদের জীবনধারণ ক্ষমতাও অত্যন্ত জোরালো।

গবেষণার সহ-লেখক হাই নান লে বলেন, ‘বিশাল আকৃতির একটি তেলাপোকাকে ছুটে আসতে দেখলে অনেকেই অপছন্দ করতে পারেন। তবে আপনি যদি ধ্বংসস্তূপে কিংবা কোনো গুহায় আটকা পড়েন এবং সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে এটি জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

গবেষণার সহ-লেখক ও বায়রোবোটিকস প্রকৌশলী থাং ভো-দোয়ান বলেন, ‘প্রথমে তেলাপোকাকে অবশ করে নেওয়া হয়, যেন ইলেকট্রোড প্রতিস্থাপনের সময় এটি কোনো যন্ত্রণা অনুভব না করে। এরপর স্নায়ুতন্ত্রে হালকা বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠিয়ে আমাদের নির্দেশমতো একে পরিচালনা করা হয়।’

গবেষণায় পরীক্ষায় নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য পাওয়া গেছে এবং ওষুধ সরবরাহে সাফল্যের হার ছিল ৭২ শতাংশ। তবে লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকা অবস্থায় ইনজেকশন প্রয়োগে সাফল্যের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ শতাংশে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিটি এখনও প্রাথমিক গবেষণাগার পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তব দুর্যোগ ক্ষেত্রের অসমতল ও জটিল পরিবেশের আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাস্তব উদ্ধার অভিযানে এই সাইবর্গ তেলাপোকাদের দলগতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত