রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত চান্দিনার সাগর

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মো. সাগর নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাশিয়া থেকে সাগরের এক বন্ধু তার বোনের মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে মৃত্যুর খবর জানান। সেই বার্তা দেখার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার কবির হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সাগর সবার ছোট। পরিবারের অভাব ঘোচাতে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে একটি বেকারিতে কাজও পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরি ও এককালীন ৩০ লাখ টাকা পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে শেষ পর্যন্ত তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

সাগরের মৃত্যুর খবর জানলেও তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা কিংবা মৃত্যুর বিষয়ে তার পরিবার এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি। রাশিয়ায় থাকা ওই বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সাগরের চাচা আব্দুল আওয়াল বলেন, গত শনিবার সাগরের বন্ধুর পাঠানো বার্তায় আমরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারি। বন্ধুটি পরে বিস্তারিত জানাবে বলেছিল। তবে গতকাল পর্যন্ত আর ফোন করেননি। আমরাও তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছয় লাখ টাকা খরচ করে সাগর রাশিয়া গিয়েছিলেন জানিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, ওখানে কাজ করার সময় বাংলাদেশি এক দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় সাগরের। ওই ব্যক্তি তাকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে। পাশাপাশি এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে রাজি হয়ে চলতি বছরের মে মাসে বেকারির চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন সাগর।

এ বিষয়ে সাগরের চাচা আব্দুল আওয়াল বলেন, যুদ্ধে যাওয়ার আগে সাগর আমার ব্যাংক হিসাবে তিন লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। এরপর থেকে আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙে পড়েছেন বাবা কবির হোসেন। তিনি বলেন, অনেক ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলেটার সঙ্গে কথাও বলতে পারিনি। এখন শুনি, আমার ছেলে আর নাই।

এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, সাগরের মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানতে পারিনি। এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।