গণপিটুনিতে আসিফের মৃত্যু, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

ভোলার রাজাপুরে গণপিটুনিতে আসিফের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত বিরোধ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন ব্যক্তিদেরও মামলায় জড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে গণপিটুনিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিও উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে আসিফের মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কয়েকজন মন্তব্যকারী অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে কিছু ব্যক্তিকে হয়রানি করার চেষ্টা হতে পারে। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যাঁদের সম্পৃক্ততা নেই, তদন্তে তাঁদের নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অন্যদিকে, মন্তব্যকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, আসিফের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা হোসেন ম্যানেজারকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ থাকলেও তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার বিচার হবে আইনের মাধ্যমে। তাই ছুরিকাঘাতের ঘটনা এবং গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা-দুটিরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হোসেন ম্যানেজারকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে আসিফের বিরুদ্ধে। হোসেন ম্যানেজার রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সালিশি বৈঠকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত হোসেন ম্যানেজারকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন আসিফকে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, আসিফের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে। পাশাপাশি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

এ অবস্থায় সচেতন মহল মনে করছেন, একজনের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ, এরপর গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং সেই ঘটনায় হত্যা মামলা—পুরো ঘটনাপ্রবাহে অপরাধের দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা হবে এবং নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হবেন না।