চরফ্যাশনে বরফসহ ২ কাভার্ড ভ্যান, ৪ বোট আটক

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ এএম

সরকার ঘোষিত ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে ভোলার চরফ্যাশনে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও পাচারের প্রস্তুতির অভিযোগে বরফবোঝাই দুটি কাভার্ড ভ্যান, চারটি ফিশিং বোট ও জাল আটক করা হয়েছে। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খেজুরগাছিয়া পর্যটন স্পটের মাঝঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সরঞ্জাম আটক করা হয়। জব্দ করা বরফের আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এ ঘটনায় তিনজনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ শিকার ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে যশোর থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। চরফ্যাশনের বাশির দোন এলাকার বজলু মেম্বার নামের এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে এ প্রস্তুতি চলছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের।

সোমবার গভীর রাতে খেজুরগাছিয়া পর্যটন স্পটের মাঝঘাট এলাকায় বরফ খালাসের সময় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা বরফবোঝাই গাড়ি আটকে শশীভূষণ থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) খলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি কাভার্ড ভ্যান ও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের বরফ জব্দ করে। এ সময় ঘাটে রাখা দুটি ফিশিং বোট ও জালও আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

এ ঘটনায় মাছ শিকারে যাওয়ার সময় তিনজনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খালেক বেপারির ছেলে শাহাদাত, মোস্তাফিজের ছেলে শাকিল এবং দৌলতখান এলাকার মৃত সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন। তবে তাদের আটকের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে একই রাতে উপজেলার পাঁচকপাট স্লুইসগেট ঘাটসংলগ্ন নদী থেকেও জালসহ আরও দুটি ফিশিং বোট আটকের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই এলাকায় এখনো জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জামসহ বেশ কয়েকটি নৌকা নদীতে ভাসমান রয়েছে। এসব নৌকার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের আশঙ্কা করছেন তারা।

নদী ও ঘাটে অভিযান চললেও চরফ্যাশনের বিভিন্ন মাছ বাজারে মা ইলিশ বিক্রি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ককশিটের বাক্সে লুকিয়ে ইলিশ বিক্রি করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান না থাকায় তারা এ সুযোগ পাচ্ছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু নদী ও ঘাটে অভিযান চালালেই হবে না, মাছ বাজারগুলোতেও নিয়মিত তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে আটক করা বরফ, যানবাহন ও নৌকার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শশীভূষণ থানা পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা বরফ, কাভার্ড ভ্যান ও ফিশিং বোটের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত