ঘরের মাঠে বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের। কিন্তু দেশের বাইরে গেলেই যেন বদলে যায় সব। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড কিংবা পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সাফল্য পেলেও ওয়ানডেতে বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না টাইগাররা। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও সেই দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠেছে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে এখন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটারদের দক্ষতার ঘাটতিকে দায়ী করছেন না তানজিদ হাসান তামিম। তার চোখে, সমস্যার বড় অংশজুড়ে রয়েছে মানসিকতা, প্রস্তুতি ও দল হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে না পারা।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ের এই চিত্র নতুন নয়। ওয়ানডেতে তিন শ কিংবা তার বেশি রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জ এলেই ব্যাটারদের মধ্যে বাড়তি চাপ কাজ করে। উইকেট হারানোর পর সেই চাপ আরও বাড়ে, ভেঙে পড়ে জুটি গড়ার পরিকল্পনাও। আগামীকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাই নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু জয় নয়, জিততে হবে বড় ব্যবধানেও।
ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম জানান, ঘরের মাঠ ও বিদেশের মাঠে পারফরম্যান্সের এই পার্থক্যকে তিনি কেবল দক্ষতার ঘাটতি হিসেবে দেখেন না। তার মতে, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে দেশের বাইরেও ভালো করা সম্ভব। তামিমের ভাষায়, ‘স্কিলের সমস্যা থাকলে আমরা ঘরের মাঠেও ভুগতাম। ঘরের মাঠে যেভাবে খেলি, একই মানসিকতা নিয়ে দেশের বাইরেও যদি খেলতে পারি, একই রকম প্রস্তুতি নিয়ে দল হিসেবে ভালো করতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় খুব ভালো হবে।’
বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় বাংলাদেশের ব্যাটারদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপরও জোর দিয়েছেন এই ওপেনার। তার মতে, শুরু থেকেই তিন শ কিংবা সাড়ে তিন শ রানের হিসাব মাথায় নিয়ে খেললে চাপ বাড়ে। বরং লক্ষ্যকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে এগোতে পারলে ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি সামলানো সহজ হবে। তামিম বলেন, ‘আমরা যদি ৩০০-৩৫০ চিন্তা না করে ছোট ছোট লক্ষ্য ধরে খেলি, তাহলে আমার মনে হয় কাজটা সহজ হবে। আমাদের এভাবেই মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’
তবে শুধু ব্যক্তিগত মানসিকতা বদলালেই হবে না, দল হিসেবেও ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজন দেখছেন তামিম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, দলের ভেতরে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি না করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতিপক্ষের নাম কিংবা শক্তি বিবেচনায় নিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি না করে প্রতিটি ম্যাচে সমান মনোযোগী হওয়াই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি।
দলের এই ঐক্যের বিষয়টি তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘আমরা একটা পরিবারের মতো। কেউ চায় না এই পরিবারের মধ্যে নেতিবাচক কিছু তৈরি হোক। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে থেকে দল হিসেবে ভালো করতে হবে। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে না অস্ট্রেলিয়া, সেটা না ভেবে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে সমান মনোযোগ ও প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে হবে।’