এনসিএলে নাটকীয় অভিষেকেই নায়ক রাকিব

স্বীকৃত ক্রিকেটে অভিষেকের জন্য হয়তো আরও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতো রাকিব হাওলাদারকে। কিন্তু সতীর্থের চোট খুলে দেয় সুযোগের দরজা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাতারাতি আলোচনায় উঠে আসেন খুলনার এই ১৮ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার। ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডে কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নেমে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে দলের ১০ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। একই রাউন্ডে সিলেটের কাছে ৩৭ রানে হেরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর। রাজশাহী আট উইকেটে হারিয়েছে বরিশালকে। একমাত্র ঢাকা ও ময়মনসিংহের মধ্যকার ম্যাচটি ড্রয়ে শেষ হয়েছে ।

সিলেটের একাডেমি মাঠে চট্টগ্রামের বিপক্ষে খুলনার জয়ে রাকিবের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শেখ মেহেদী হাসান। জয়ের জন্য শেষ দিনে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১০১ রান, হাতে ছিল পাঁচ উইকেট। আগের দিন রাকিবের ঘূর্ণিতে চট্টগ্রামের ব্যাটিংয়ে ধস নামার পর শেষ দিনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মেহেদী। দিনের শুরুতে শামীম পাটোয়ারি ও ইরফান শুক্কুরকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে চাপে ফেলেন তিনি। ৩৭ বলে ৪৬ রান করে ইরফান ফেরার পরও আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ রুবেল প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ পর্যন্ত ২৬৪ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। মেহেদী নেন চার উইকেট এবং রাকিবের পাঁচ উইকেটের কীর্তিতে পূর্ণতা পায় খুলনার জয়।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে খুলনার হয়ে এনসিএলের প্রথম একাদশে সুযোগ পান রাকিব। তবে প্রথম দুই রাউন্ডে খেলার সুযোগ হয়নি তার। তৃতীয় রাউন্ডেও বেঞ্চে বসে ছিলেন। তবে সামিউন বশির রাতুল মাথায় আঘাত পেলে কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রাকিব। এর আগে ঢাকার তৃতীয় বিভাগ লিগে খেলেছেন তিনি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা নিয়ে সরাসরি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নেমেই পাঁচ উইকেট তুলে নেওয়া এই তরুণ বাঁহাতি স্পিনার নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রামে ব্যাট হাতে সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি রংপুর। সিলেটের প্রথম ইনিংস থামে ২৩৭ রানে। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও ৯৪ রানে অপরাজিত থাকা অমিত হাসান তৃতীয় দিন আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি। আবু হাশিমের চার উইকেটে দ্রুত গুটিয়ে যায় সিলেটের ইনিংস। ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অনিক সরকার ৫৫ এবং আবদুল্লাহ আল মামুন ৪৪ রান করে রংপুরকে জয়ের সম্ভাবনা দেখান। কিন্তু নাসুম আহমেদের পাঁচ উইকেট ও নাঈম আহমেদের চার উইকেটে ১৭৩ রানেই শেষ হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ইনিংস। ৩৭ রানের জয়ে ম্যাচসেরা হন নাঈম। দুই ইনিংসে ৮ উইকেট নেন এই স্পিনার।

রাজশাহীতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বরিশালের লড়াইও শেষ পর্যন্ত একপেশে হয়ে যায়। প্রথম ইনিংসে ৪৫৭ রান করা রাজশাহীর বিপক্ষে বরিশাল নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২২৯ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে দিন শুরু করেও শফিকুল ইসলামের বোলিং সামলাতে পারেনি তারা। বরিশালের ইনিংস থামে ২৭৪ রানে। শফিকুলের পাঁচ উইকেটের নৈপুণ্যে রাজশাহীর সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪৯ রান। ২ উইকেট হারিয়েই সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় দলটি। এবারের আসরে এটি প্রথম জয় রাজশাহী। এ নিয়ে বরিশাল ৩ ম্যাচের সবগুলো হেরেছে।

কক্সবাজারে ঢাকা ও ময়মনসিংহের ম্যাচ অমীমাংসিত শেষ হয়েছে। ঢাকা প্রথম ইনিংসে ৩৭৭ রান করার পর ময়মনসিংহের সংগ্রহ ছিল ৩৮৭ রান। ১০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ময়মনসিংহের আরিফুল ইসলাম ৯২ রান করে সেঞ্চুরির আক্ষেপে পোড়েন। ১৬৭ রানে তিন উইকেট হারানোর পর দুই অধিনায়ক ড্র মেনে নেন। তিন ম্যাচ শেষে দুই দলেরই পয়েন্ট তিন।