ব্যাটিং ব্যর্থতায় ডুবল বাংলাদেশ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ এএম

ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে শুধু জিতলেই হবে না, আফগানিস্তানকে হারাতে হবে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতার পুরনো চিত্র বদলাতে পারল না তাওহীদ হৃদয়ের দল। গতকাল শারজায় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। লিটন দাসের চোটের কারণে দলে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন একাই লড়লেন। কিন্তু তার ৭০ রানের ইনিংসও দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। তিন ব্যাটসম্যান ছাড়া বাংলাদেশের আর কেউ-ই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। তিন পরিবর্তনের একাদশে অভিষেক হওয়া আলিস আল ইসলাম শূন্য রানে ফেরেন।

আবুধাবিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন করে ফেলে বাংলাদেশ। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক হৃদয়। কিন্তু শারজার উইকেটে শুরু থেকেই আফগান পেসারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে। দ্বিতীয় ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের টানা দুই বলে ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম (১) ও সৌম্য সরকার (০)। এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের আঘাতে সপ্তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন (১৫) ও হৃদয় (০)। দলীয় ২৮ রানে ৪ উইকেট হারান সফরকারীরা।

সেই ধাক্কা সামলে সাইফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন ইমন। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯২ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখায়। শুরুতে রান তুলতে সতর্ক থাকলেও উইকেট ধরে রাখার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু জুটি ভাঙার পর আবারও ধস নামে ব্যাটিংয়ে। ৮২ বলে ৪১ রান করে সাইফ ফিরলে ভেঙে যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দল যখন আরও চাপে, তখনো একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ইমন। ৯৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ছক্কা মেরে নিজের আগের সর্বোচ্চ ৬৭ রানের ইনিংসকেও ছাড়িয়ে যান তিনি। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৭০ রান করে আউট হন তিনি।

দলীয় ১৫৬ রানে অষ্টম উইকেট হিসেবে তার বিদায়ে বাংলাদেশের বড় ২০০ ছাড়ানোর আশাটুকু শেষ হয়ে যায়। এরপর আলিসকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন রশিদ খান। পরের বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে বোল্ড করে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন আফগান লেগ স্পিনার। ৪১ ওভার ২ বলে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের হয়ে ৪ উইকেট নেন রশিদ।

অথচ ম্যাচের আগে তাসকিন আহমেদ শারজার উইকেট আর নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। এ ডানহাতি পেসার বলেন, ‘আবুধাবির তুলনায় এখানকার উইকেট কিছুটা ব্যাটিং-সহায়ক। বাউন্ডারিও ছোট এবং সুইং তুলনামূলক কম পাওয়া যায়।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘হেরে যাওয়ার (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে) পর সবাই কিছুটা হতাশ ছিল এটিই স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি দিন এক রকম যায় না। আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। আজ (গতকাল) নতুন একটি দিন। আমরা নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করব এবং বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি জিততে নিজেদের শতভাগেরও বেশি উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত