বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে একের পর এক আঘাত হানেন আল আমিন হোসেন। ৬ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেননি এই পেসার। ২৩৭ রানে গুটিয়ে যায় তারা। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় আল আমিনের অসাধারণ বোলিং শেষ পর্যন্ত কাজে এলো না। গতকাল জয়ের পথে থেকেও আচমকা ব্যাটিং ধসে যুব ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৪৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।
ওমানে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আল আমিনের বোলিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। তার জোড়া আঘাতের পর ৫০ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। তবে সুবহান জাখাইল ও শাহ ফয়সাল রাহিমির ১০৫ রানের জুটি ঘুরে দাঁড়ায়। জাখাইল ৮১ ও রাহিমি ৮০ রান করেন। পরে জুটিটি ভাঙার পাশাপাশি ৬০ রানে ছয় উইকেট পূর্ণ করেন আল আমিন। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের তৃতীয় পেসার হিসেবে ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেও সতীর্থদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় দিনটি শেষ পর্যন্ত তার জন্য হতাশারই হয়ে থাকল।
২৩৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে একপর্যায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৫৭ রান। সেখান থেকে মাত্র ১৫ বলের ব্যবধানে কোনো রান যোগ না করেই ৪ উইকেট হারায় দলটি। সেই বিপর্যয় আর সামাল দিতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৯৪ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিংয়ে ধস নামার আগে দারুণ লড়াই করেন আবদুল্লাহ আল মুহি ও কাওসার আহমেদ। ওপেনার এসকে জারিফ সিয়াম শুরুতেই ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে ১১২ বলে ১০৭ রানের জুটি গড়েন তারা। ৫৬ বলে ৬১ রান করে ফেরেন মুহি। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা।
অন্য প্রান্তে কাওসারও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। আল আমিন হোসেন রনিকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে আরও ৪৪ রান যোগ করেন তিনি। ৬৪ রান করা কাওসার আউট হতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর মাত্র ১৫ বলের মধ্যে ফিরে যান রনি, রাকিবুল হাসান ও অধিনায়ক ফরিদ হাসান। ১৫৭ রানে ২ উইকেট থেকে মুহূর্তেই ৬ উইকেটে পরিণত হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। শেষ দিকে রবিউল হাসান অনিকের ১৬ রান শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে। আফগানিস্তানের হয়ে ৩ উইকেট নেন ইমরান মোহাম্মাদি।