ভোলায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে নারীদের স্বর্ণালংকার নিয়ে পালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত দুই দিনে বোরহানউদ্দিনে এক নারীর গলার এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং দৌলতখানে এক বিধবার কানের সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এমন প্রতারণার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাওয়ার প্ল্যান্ট সড়কে পুলমা রানী দে নামের এক নারীর স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাওয়ার প্ল্যান্ট সড়কের অনির বাবাজির মন্দিরে কবিগান শুনে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক অনুসরণ করে কুতুবা জামে মসজিদসংলগ্ন নির্জন এলাকায় পথরোধ করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়াসহ নানা কথা বলার একপর্যায়ে তার গলা থেকে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এর আগের দিন সোমবার দুপুর ১টার দিকে দৌলতখান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজি বাড়িতে একই কৌশলে মরিয়ম বেগম নামের এক বিধবার কানের সোনার দুল নিয়ে পালানোর অভিযোগ ওঠে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
মরিয়ম বেগম জানান, মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি বাড়িতে এসে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ছবি তুলতে চান। একপর্যায়ে ছবি তোলার কথা বলে আমাকে কানের দুল খুলতে বলেন। পরে দুল নিয়ে মোটরসাইকেলে উঠে তারা দ্রুত পালিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলার বোরহানউদ্দিনের দেউলা ইউনিয়নেও ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ছবি তোলার কথা বলে এক নারীর স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালানোর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ভোলা সদরেও একই ধরনের ঘটনা ঘটার কথা জানা গেছে। সরকারি সুবিধার নাম ব্যবহার করে একের পর এক এমন ঘটনায় প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দৌলতখান থানার ওসি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি আশ্রাব আলী বলেন, থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। অভিযোগ পেলে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।