পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে গত এক বছর ধরে নিয়মিত ডিজে পার্টির আয়োজন করা হচ্ছিল। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এসব পার্টিতে যোগ দিতেন অংশগ্রহণকারীরা। বেশিরভাগই উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য এবং তাদের সন্তান বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২০২৫ সাল থেকে এসব আয়োজন চলছিল। গতকাল বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির।
তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ৩০০ ফিটের সেই বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ভবনটিতে ২৬ তরুণী ছিলেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। ভবনটিতে প্রবেশ করে ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। সিসা সেবনের কারণে পরিবেশ ধোঁয়াচ্ছন্ন ছিল। ইলিয়াস কবির বলেন, ‘আটক নারীদের সবাই শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। অন্যদিকে আটক পুরুষের মধ্যে কেউ শিক্ষার্থী, কেউ করপোরেট চাকরিজীবী, আবার কেউ ব্যবসায়ী তাদের মধ্যে নারীদের ১৫ দিন পুরুষদের এক মাসের সাজা দেয় আদালত।
ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব পার্টির আয়োজন করা হতো। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন হতো। প্রতিটি আয়োজনে অংশ নিতে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা দিতে হতো। এ ছাড়া বাড়িভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করলে পার্টি বন্ধ হয়ে যায়। উপস্থিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন কক্ষে চলে যান। ভবনটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ ছিল। অভিযানে মদের তিনটি বোতল, ইয়াবা ও কুশ নামে একটি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া যৌন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়।
ইলিয়াস কবির জানান, অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটির কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে ভাড়া বুকিং করে এসব পার্টিতে অংশ নিতেন। পার্টি থেকে আয়ের বড় একটি অংশ পান অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির ও তার স্টাফরা। ইলিয়াস কবির জানান, ওখানে একজন কো-হোস্ট ও হোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলম আটক আছেন। অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। তার বাসায় অভিযানের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জহির বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক গ্রহণ ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এ কারণে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, সিনথেটিক মাদক, সিসা ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।