অনুমতি ছাড়া মাদরাসার গাছ বিক্রির অভিযোগ

ঝালকাঠির রাজাপুরে কোনো রকমের রেজুলেশন বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই উপজেলার কেওতা ঘিগড়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার মূল্যবান আকাশমনি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোবাশ্বের হোসেনের বিরুদ্ধে। দুর্গাপূজার বন্ধের মধ্যে বুধবার (২১ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।

সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ বা গাছ বিক্রির জন্য কমিটির অনুমোদন ও বন বিভাগের অনুমতি আবশ্যক জেনেও অধ্যক্ষের এমন কাজে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় জানায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় মাদরাসাটির টিনশেড একটি ঘর সেমি পাকা করার বরাদ্দ পায়। সেই সেমি পাকা ভবনের কাজ করার জন্য লে আউট প্ল্যানের মধ্যে গাছটি পড়লে অধ্যক্ষ গাছটি দিনমজুর দিয়ে কেটে স্থানীয় এক গাছ ব্যবসায়ীর কাছে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

তবে অভিযোগ স্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোবাশ্বের হোসেন বলেন, গাছটি কেটে প্রথমে স্কুলের কিছু ফার্নিচার তৈরি করার চিন্তা করেছিলাম কিন্তু বর্তমানে তো আমাদের কমিটি নেই, তাই কেটে বিক্রি করে দিয়েছি।

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি করা আইনসম্মত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,বন্ধের মধ্যে আমি কার কাছে অনুমতি চাইবো। শুনেছি এডিসি জেনারেলকে মাদরাসা কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু এখনও তিনি দায়িত্ব নেননি। তাই আমি অনুমতিও নিতে পারিনি।

রাজাপুর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনোভাবেই তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে পারেন না। আমরা এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন,অধ্যক্ষ কর্তৃক গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাটি আমি শুনেছি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।