ওভারব্রিজ ঘেঁষেই ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন!

রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগে পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য নির্মিত একটি স্টিলের ফুটওভার ব্রিজই এখন বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। ব্রিজটির গা ঘেঁষে রয়েছে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে শুধু একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দায় সেরেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

ব্রিজটিতে বিদ্যুৎ লাইনের পাশে টাঙানো একটি সাইনবোর্ডে লেখা, ‘সাবধান। পথচারী চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। এগার হাজার বৈদ্যুতিক ক্যাবল।’ নিচে রয়েছে ‘আদেশক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন’। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাইনবোর্ডে বৈদ্যুতিক লাইনের ঝুঁঁকির কথা উল্লেখ করে ব্রিজটিতে পথচারীদের চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও ব্রিজটি নিরাপদ করতে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ কী, তা স্পষ্ট নয়। ফলে প্রতিদিন হাসপাতালসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী মানুষ ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।

সম্প্রতি সরেজমিন ওই ফুটওভার ব্রিজে গিয়ে দেখা গেছে ঝুঁকি নিয়েই পারাপারের জন্য মানুষ এটি ব্যবহার করছে। এখানে কথা হয় ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে রাস্তা পেরোনো গাইবান্ধার বাসিন্দা শাহিনুর ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, রাস্তা পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজে উঠে সাইনবোর্ড যখন দেখেছি ততক্ষণে ব্রিজের অর্ধেক পেরিয়ে এসেছি। নিচ থেকে সাইনবোর্ডটি দেখা গেলে উঠতাম না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টোলারবাগ সরকারি কোয়ার্টারের এক বাসিন্দা বলেন, সিটি করপোরেশন ব্রিজে ওঠানামার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেয়নি। ফলে হাসপাতালে যাতায়াত করে, এমন অনেক মানুষ নিয়মিত পারাপার হচ্ছে। এভাবে সাইনবোর্ড দিয়ে তো দায় এড়ানো যায় না। এ বিষয়ে ডিএনসিসির অঞ্চল ৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরিচয় দিয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ফুটওভার ব্রিজটির পাশে থাকা বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের পরিকল্পনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি স্টিলের কাঠামো থাকায় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে ব্রিজ ও লাইনের মধ্যকার দূরত্ব, লাইনের অবস্থা এবং বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষা ছাড়া নির্দিষ্টভাবে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা  বলেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া কিংবা আগুন লাগার মতো গুরুতর দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে ডেসকোর (ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, শুধু সাইনবোর্ড টাঙিয়ে পথচারীদের চলাচল নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। কারণ একদিকে মানুষ নিরাপদে ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছে না, অন্যদিকে বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হতে হচ্ছে। তাই ব্রিজটি কত দিন বন্ধ থাকবে, ঝুঁকি নিরসনে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কবে নাগাদ এটি নিরাপদে ব্যবহারের উপযোগী হবে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।