নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা-মোক্তাইররা সড়কের নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনিয়মের অভিযোগ করায় এক শিক্ষককে পিটানোর হুমকি এবং শিক্ষকের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে সড়ক বিভাগের স্থানীয় কার্যসহকারীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশ্রাফুল আলম সড়কটির নির্মাণ কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক ওর্ডার) দেখতে চাইলে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক বিভাগের কার্য-সহকারী বশির উদ্দীন আহম্মেদ তাঁকে (শিক্ষককে) বেঁধে পেটানোর হুমকি দেন এবং ঐ শিক্ষকের সাথে গুরুতর অশালীন আচরণ করেছেন এমন অভিযোগ করেন ঐ শিক্ষক। তিনি (কার্যসহকারী) নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদেরকে তাঁকে (শিক্ষককে) বেঁধে রাখার নির্দেশও দেন বলে অভিযোগ করেন। এ খবর এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন মিছিল করে ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। তারা সড়কের নির্মাণ কাজের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও শিক্ষককে অপমানের বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিনভর ভিডিওগুলো ঘিরে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বশির উদ্দীন আহম্মেদ দীর্ঘদিন(প্রায় দুই যুগ) ধরে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের অধীনে হাতিয়া উপজেলায় কার্য-সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বলেন, ঠিকাদার সড়কের কাজ করবেন, কাজ তদারকির দায়িত্ব সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের। সড়কের কর্মচারীর বিরুদ্ধেই অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারের পক্ষে একজন কর্মচারীর এমন আচরণে স্থানীয় লোকজন হতাশ। তারা আরো জানান একজন শিক্ষকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অন্য এক বাসিন্দার অভিযোগ, কার্য-সহকারী বশির উদ্দীন আহম্মেদ হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক বিভাগের কাজ তদারকি করেন। কাজের অনিয়ম নিয়ে কেউ কথা বললে তিনি তাদের সঙ্গে দূর্ব্যবহার করেন। এর আগে ওছখালী ও জাহাজমারা বাজার এলাকায় সড়কের কাজ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তার (বশির উদ্দীন আহম্মেদ)অনেক বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,জাহাজমারা বাজার-মোক্তারিয়া ঘাট প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ পেয়েছে 'মেসার্স অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা'। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ ছয় মাস আগে শুরু হয়। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আশ্রাফুল আলম বলেন, 'এ সড়কে যে পরিমাণ কার্পেটিং দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে জানালে তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক ওর্ডারr) দেখতে চাইলে কার্য-সহকরী বশির উদ্দীন আহম্মেদ আমাকে মারতে তেড়ে আসেন এবং শ্রমিকদেরকে আমাকে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন'।
অভিযোগের বিষয়ে কার্য-সহকারী বশির উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, ‘রাস্তার কাজে প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে মধ্যে থেকে করতে হয়। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এ জন্য আমি ক্ষমা চেয়েছি'।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ(সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এসএই) মহিবুল্লাহ সুমন বলেন, ' জাহাজমারা বাজার- মোক্তারিয়া ঘাট সড়কের কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে। কেউ কাজের নকশা দেখতে চাইলে তাকে দপ্তরে আসতে হবে। কর্তৃপক্ষ নকশা তা দেখাতে বাধ্য। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কর্মচারী বশির উদ্দীন আহম্মেদের আচরণ ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে'।
এ প্রসঙ্গে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, এখন থেকে সড়কটির নির্মাণাধীন এলাকায় একজন প্রকৌশলী সার্বক্ষনিক উপস্থিত থাকবেন। সড়ক নির্মাণের ব্যাপারে ইতোমধ্যে সংঘটিত ঘটনার তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেয়া হবে।