নোয়াখালী জেলার চাটখিলে একটি আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকার অস্বাভাবিক বিল আসার ঘটনায় দ্রুত সমাধান হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতেই সংশোধিত বিলের কপি গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেন নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা। পরে গ্রাহক বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার ১৮২ টাকা পরিশোধ করেন।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমান, এজিএম রাহাত ও মিটার রিডার জামাল উদ্দিন উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে যান। সেখানে তারা ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকার বিল সংশোধন করে ১ হাজার ১৮২ টাকার নতুন বিল গ্রাহকের হাতে তুলে দেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নথি অনুযায়ী, মিটারটি প্রয়াত আবু তাহেরের নামে নিবন্ধিত। বর্তমানে তার নাতি শহীদুল ইসলাম রনি মিটারটি ব্যবহার করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বর মাসের বিলে ছয় হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছিল। ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। অথচ এর আগের পাঁচ মাসে পরিবারটির গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল মাত্র ১২৫ ইউনিট।
বিলের এই অস্বাভাবিক পরিমাণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের নজরে এলে তারা দ্রুত বিল সংশোধনের উদ্যোগ নেন।
সংশোধিত বিল পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন গ্রাহক শহীদুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, তাদের বিদ্যুৎ বিল তৈরিতে ভুল হয়েছিল। রাতে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা সরাসরি বাড়িতে এসে সঠিক বিলের কপি দিয়ে গেছেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই ১ হাজার ১৮২ টাকা পরিশোধ করেছেন।
রনি আরও বলেন, যিনি বিল তৈরি করেছেন, তিনি ভুলবশত এমনটি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, অন্য কেউ যেন এমন ভুতুড়ে বিলের শিকার না হন, সেই প্রত্যাশাও জানান।
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম জুনায়েদুর রহমান বলেন, তিনি নিজে গিয়ে রাতেই সংশোধিত বিলটি গ্রাহকের হাতে দিয়ে এসেছেন এবং গ্রাহকও তা পরিশোধ করেছেন। মূলত টাইপিংয়ের ভুলের কারণে এমনটি হয়েছিল।