বাউফলে বিদ্যুতের অতিরক্তি বিল কার পকেটে!

পটুয়াখালীর বাউফলে একটি ‘স’-মিলে গত ৪মাস আগে নতুন মিটার স্থাপন করে পল্লী বিদ্যুৎ। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিগত ৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল ইস্যু হয় ২৫ হাজার টাকা। মিলটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকার কারণে সন্দেহ হয় মিল মালিক আবু হানিফের।

অফিসে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, যা বিল তাই জমা দিতে নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ। সন্দেহ হওয়ায় দেশ রূপান্তর প্রতিনিধির স্মরনাপন্ন হন তিনি। চ্যালেঞ্জে মুখে পড়ে কর্মকর্তা হিসেব দিতে গিয়ে জানান নির্ধারিত মাসের বিলের চেয়ে আরও প্রায় ৬শত ইউনিটের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। পরে ভুল স্বীকার করে পরবর্তী মাসের বিলের সাথে সমন্বয় করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এখন প্রশ্ন আসে এরকম বিল প্রতিমাসে কতজনে পরিশোধ করেন? আর এই অতিরিক্ত বিল কার পকেটে যায়?

পল্লী বিদ্যুতের একজন গ্রাহক নাঈম তালুকদার। গত আগষ্ট মাসের তার বাসার বিদ্যুৎ বিল আসে ৪২০টাকা। তিনিও দেশ রূপান্তর বাউফল প্রতিনিধির স্মরনাপন্ন হন। গত ১৯ সালের নভেম্বর মাসের পরিশোধ করা আরও এটি বিল সংযুক্ত করে মোট ৬১৫টাকা বিল ইস্যু করেন পল্লীবিদ্যুৎ। অথচ ১৯সালের ওই বিল ছিল ৫৫৭টাকা। ৪২০ এবং ৫৫৭ যোগ করলে ৯৭৭টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু ১৯৫টাকা বাড়িয়ে বিল করেন ৬১৫টাকা। যা গ্রাহকের নজরে আসার কথা নয়। কিন্তু একইভাবে চ্যালেঞ্জ করেন গ্রাহক। অনেক খোঁজাখুজির পরে আগের বছরের পরিশোধিত বিলের কপি খুজে পেয়ে বিল কাগজ নিয়ে অফিসে যোগাযোগ করা হলে ভুল স্বীকার করে ওই মাসের বিল ৪২০টাকা পরিশোধ করে মুক্ত হন নাঈম। প্রশ্ন, পরিশোধ করা বিলে কাগজ খুজে না পেলে তাকেও গুনতে হতো ১৯সালের ওই বিলের টাকা। 

এই চিত্র শুধু ওই দুইজনের নয়, পুরো উপজেলার একই চিত্র। প্রশ্ন, চ্যালেঞ্জ না করে বিল পরিশোধ করলে ওই অতিরিক্ত টাকা কার পকেটে যেত? আর যারা চ্যালেঞ্জ না করে বিল পরিশোধ করেন তাদের টাকা কার পকেটে এমন প্রশ্ন সকল গ্রাহকের। উপজেলার প্রতিটি গ্রাহকের কম-বেশি অভিযোগ পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষে বিরুদ্ধে।

কামরুল হাসান নামের অপর গ্রাহক জানিয়েছেন, তিনি একটি ভাড়া দোকানে ২০২১ সাল থেকে ব্যবসা করে আসছেন। হঠাৎ গত মাসের বিলের সাথে ২০১৬ সালের ৫৯০০ টাকার একটি বিল মূল বিলের সাথে যোগ হয়। বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ওই বিল পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন তাকে। এঘটনায় বাউফল পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম কাছে মৌখিকভাবে আবেদন জানালে তিনি বলেন, পুরো টাকা পরিশোধ করতে হবে। কোন কথা হবে না। আপনি যা পারেন বাহিরে গিয়ে করেন বলে হুমকি দেন ডিজিএম।

মেহেদি হাসান নামের অপর এক গ্রাহক বলেন, এনালগ মিটারে তেমন কোন সমস্যা ছিল না।  ডিজিটাল মিটার আসার পরই  ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।

জিএম মশিউর রহমান মিলন নামের অপর এক গ্রাহক জানান, তার নিজের বসত বাড়ির একই মিটারে এক মাসে ২টি বিল ইস্যু হয়। তিনি না দেখে ওই বিল ২টি একই সাথে পরিশোধ করেন। পরে বিল ২টি মিলিয়ে দেখেন একই বিল দুইবার করা হয়েছে। অফিসের সাথে যোগাযোগ করলে তারা পরবর্তী মাসের বিলের সাথে সমন্বয় করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ৪মাসেও তা সমন্বয় করা হয়নি। এভাবেই মিটারের ডিজিটাল চুরির সম্মুখিন হতে হচ্ছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রাহককে। কম বেশি প্রায় সকল গ্রহাকের অভিযোগের আঙ্গুল পল্লী বিদ্যুতের দিকে।

পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট গ্রাহক সংখ্যা ৭৫হাজার ৩৯। উপজেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৬-২০ মেগাওয়াট। সরবরাহ হচ্ছে সাড়ে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মেগাওয়াট। বেশিরভাগ সময় লোডসেডিং থাকছে উপজেলাজুড়ে। 

গ্রাহকদের দাবি এত সময় লোডশেডিং থাকার পরেও এত বিল কিভাবে আসে? আগে নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকার পরে যে বিল আসতো এখন তার চেয়ে দেড়গুন বা দুই গুণের বেশি বিল আসছে।

এবিষয়ে বাউফল পল্লিবিদ্যুত সমিতির ডিজিএম আজিজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা তো অনুমতি ছাড়া বক্তব্য দিতে পারি না। কোন বিষয়ে জানার থাকলে আমাকে লিখিতভাবে জানান। আমি উপরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপনার লিখিত অভিযোগের জবাব দেব।

পটুয়াখালী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আবুল কাশেম বলেন, কোন বিল ভুল হলে সাথে সাথে সংশোধন করে সঠিক বিল করার কথা। বিলের কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে আসতে বলেন সংশোধন করে দেয়া হবে।

অতিরিক্ত বিল কার পকেটে যায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি ভুলবশত এরকম হয়ে থাকে তবে বিলের টাকা গ্রাহকের নিজের একাউন্টে জমা থাকছে। ১৬ সালের বিল কিভাবে ২৬সালের অক্টোবর মাসে বিলের সাথে যোগ হয়। এত বছর কেন বিল না এসে ১০বছর পর বিল আকারে আসে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আসলে না দেখে বলা যাবে না। কারও অতিরিক্ত কোন বিল আসছে না। কোন বিল সন্দেহ থাকলে অফিসে যোগাযোগ করা হলে ঠিক করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।