সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই সংসদ সদস্য। এ সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখা যায়। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক নয়; এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অধ্যয়নরত পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের অনেকে ছুটিতে এলাকায় আসেন। তরুণদের এই সমাবেশকে কোনো কোনো আঞ্চলিক সংগঠন নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এ খাতের সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ সম্পৃক্ত। ফলে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আন্দোলনে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনও আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের উপযুক্ত পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাজেককে কেন্দ্র করে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধ কর্মসূচিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের যেকোনো ঘটনা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা জরুরি। এসব পরিস্থিতিকে অবহেলা না করে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখাই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সাজেকসহ পুরো পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতা নিরসনের বিষয়টি উত্থাপন করবেন। বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা এক বিবৃতিতে বলেছেন, বলপ্রয়োগ করে সাজেক বা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।