সাজেকে হামলার বিচার ও পাঁচ দফা দাবি 

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, মামলা প্রত্যাহার, ২২ অক্টোবরের হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা এসব দাবি জানিয়ে প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, গত ২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা সাজিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ওই ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানান তাঁরা।

সংগঠন দুটির অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, উজোবাজারে ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বাজার থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং সেনাসদস্যদের মারধরে আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করা।

এ ছাড়া সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ এবং আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের আহ্বান জানান নেতারা।

বিবৃতিতে সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে অভিযোগ করা হয়, উজোবাজার এলাকা দিন-রাত ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বাজারের দোকানপাট থেকে মালামাল লুট করে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, অত্যাচারের ভয়ে উজোবাজারের শতাধিক পরিবার বাড়িঘর ও দোকানপাট ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, শনিবার সকালে ডিপুপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝরণা চাকমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর সড়ক অবরোধের সময় সাংবাদিকদের সামনে সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে অপহরণ বা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন সংগঠন দুটির নেতারা। এ প্রসঙ্গে তারা কল্পনা চাকমার ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে সাজেকবাসীর ন্যায়সংগত আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। তারা অবিলম্বে পাঁচ দফা দাবি মেনে নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত