১৪ ম্যাচ পর থামল মেসি ম্যাজিক, নেইমারের লাল কার্ড

ফুটবল মাঠে একই দিনে ভিন্ন দুই মহাতারকার অর্জনের খাতায় যোগ হলো হতাশা আর আক্ষেপ। একদিকে জাতীয় দল ও ক্লাব মিলিয়ে টানা ১৪ ম্যাচ পর গোল বা অ্যাসিস্টের দেখা পেলেন না আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসিকে; অন্যদিকে, ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা ও নতুন নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেইমার জুনিয়রকে।

মেসির রেকর্ড ভঙ্গের অপেক্ষা এবং মায়ামির হার : স্পেনের ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার নেওয়ার পর দীর্ঘ যাত্রার ধকলের কারণে নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা বেঞ্চ থেকে করতে হয়েছিল ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। তবে তিনি মাঠে নামার আগেই ক্যাসেমিরোর আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে মায়ামি। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই চিরচেনা আলো ছড়ানোর চেষ্টা করেন মেসি; তার একটি দুর্দান্ত পাস থেকে সতীর্থরা গোলপোস্টে শট নিলেও ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না। উল্টো ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে এমিল ফোরসবার্গের গোলে ২-০ ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শুধু মায়ামির টানা তিন ম্যাচের জয়রথই থামেনি, ব্যক্তিগতভাবে ১৪ ম্যাচ ধরে চলা মেসির গোল বা অ্যাসিস্টের অপ্রতিরোধ্য ধারাতেও ছেদ পড়েছে। ২০১১ সালে বার্সেলোনার হয়ে গড়া নিজের টানা ১৭ ম্যাচের এই রেকর্ডের একদম কাছে পৌঁছেও তা ছোঁয়া হলো না ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার। গতকালের সেই ম্যাচ বাদে নিজের সর্বশেষ ১৪ ম্যাচে ১৫ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি।

এদিকে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মায়ামি কোচ ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেসকে পড়তে হয়েছিল মেসিকে শুরু থেকে না খেলানোর প্রশ্নের মুখে। সেখানে মেসির ক্লান্তি আর ইনজুরি এড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে গঞ্জালেস বলেন, ‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা আগেই ঠিক করা হয়েছিল। সবাই জানে যে সে বেশ দীর্ঘ একটি ভ্রমণ ক্লান্তি, টাইম জোন পরিবর্তন, তাপমাত্রার তারতম্য এবং আরও অনেক বিষয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। আমরা এই বিষয়গুলো পুরোপুরি জানতাম এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম যে, তাকে কোনো ধরনের ইনজুরির ঝুঁকিতে না ফেলাই সেরা উপায়।’

নেইমারের লাল কার্ড ও ‘ফুটবলের বড় প্রতারণা’ বিতর্ক : ব্রাজিলের ভিলা বেলমিরোয় সান্তোস ও বাহিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি শুরু থেকেই রূপ নিয়েছিল এক নাটকীয়তায়। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে প্রতিপক্ষ মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সান্তোস ফরোয়ার্ড নেইমার। প্রথমার্ধে মেজাজ হারিয়ে গায়ে বল ছুড়ে মেরে হলুদ কার্ড দেখার পর, বিরতির পর মাঠে নামার সময় নেস্তরের সঙ্গে তর্কের সময় হাত দিয়ে মুখ ঢাকার অপরাধে তারই একসময়ের জাতীয় দলের সতীর্থের নামে পরিচিত পাওয়া নতুন ‘ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আইন’ অনুযায়ী সরাসরি লাল কার্ড দেখেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও শেষ মুহূর্তে লিয়ান পেরেসের গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে সান্তোস।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের বহিষ্কারাদেশ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেইমার। ঘটনাটিকে ‘ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রতারণা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঠের মধ্যে আমরা হালকা রসিকতা ও হাসিঠাট্টা করছিলাম। পরে যখন নেস্তরের সঙ্গে কথা বলতে গেলাম, আমি স্বীকার করছি মুখ ঢাকাটা আমার ভুল ছিল; কিন্তু আমি তখনো কিছু বলিনি, আর সে সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে দিল! এটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় একটা প্রতারণা! তবে আমি নেস্তরের হিসাব ঠিকই চুকিয়ে দেব।’ অন্যদিকে, বাহিয়া মিডফিল্ডার নেস্তর নেইমারের বিরুদ্ধে তীব্র অসম্মানজনক কথার অভিযোগ আনেন, যা দুই তারকার মধ্যকার দ্বন্দ্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই লাল কার্ডের কারণে বাধ্যতামূলক দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়ে আসন্ন পালমেইরাসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসিকো ম্যাচটি মিস করতে হচ্ছে নেইমারকে।