তৃতীয় ওপেনারের জন্য তীব্র লড়াই

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দলে ওপেনার রাখা হয়েছে মাত্র দুজন। তানজিদ হাসান তামিম আর সাদমান ইসলাম বাদে আর কাউকে না রেখে অন্যদের জাতীয় ক্রিকেট লিগে পরখ করতে চান বলে জানিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। সম্ভাব্য সেই বিকল্প ওপেনারদের মধ্যে দুজন গতকাল জাতীয় ক্রিকেট লিগে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। ট্রিপল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে মোহাম্মদ নাইম শেখ আউট হয়েছে ২৮২ রান করে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলা মাহফিজুল ইসলাম খেলেছেন ২১৭ রানের। আরেক ওপেনের সিলেটের জাকির হাসানও রয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির দিকে।

নাইমের ২৮২

৪৬ ম্যাচের ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিয়ারে নাইমের সর্বোচ্চ ছিল ১৮০। গতকাল সকালে ১৭১ রান নিয়ে খেলতে নেমে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করে এক সময় ট্রিপলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিন শর হাতছানির মধ্যে স্পিনার রহিম আহমেদের বল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দেন তিনি। ৩৬৯ বলে খেলা ২৮২ রানের ইনিংসটি ২১ চারের সঙ্গে ৭টি ছক্কায় সাজান নাইম। চলতি লিগে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরিতে এখন পর্যন্ত তার সংগ্রহ ১১২.২০ গড়ে ৫৬১ রান।

নাইমের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৩৪ বলে ৩৬৩ রানের ম্যারাথন জুটি গড়েন অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। বাংলাদেশের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে এটিই চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। ফেরার আগে ১৪ চার ও ৮ ছক্কায় ২৮৯ বলে অঙ্কন খেলে যান ১৬৫ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

পরে ব্যাট করতে নেমে নতুন বলে সুমন খানের তোপে পড়ে রাজশাহী। মাত্র ১০ রানের মধ্যে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান সাব্বির হোসেন, হাবিবুর রহমান ও প্রিতম কুমার। ৮০ রানের জুটি গড়ে শুরুর চাপ সামাল দেন নাঈম আহমেদ ও সাব্বির রহমান। ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ বলে ফিফটি করেন সাব্বির রহমান। দিনের শেষ ভাগে নাঈমকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইবুর। খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমিনুল ইসলামের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন সাব্বির। রহিম আহমেদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। রাজশাহীর সংগ্রহ এখন ৬ উইকেটে ১০৩ রান। ফলো-অন এড়াতে তাদের করতে হবে আরও ২৬৯ রান।

তিন ফিফটির পর জাকিরের সেঞ্চুরি

৬০, ৬৫ ও ৭১* প্রথম তিন রাউন্ডে জাকির হাসানের সংগ্রহ। চতুর্থ ম্যাচে আর ভালো শুরুকে অপচয় হতে দেননি সিলেট অধিনায়ক। খুলনার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ১৭তম সেঞ্চুরিতে ১৬০ রান তুলে অপরাজিত বাঁহাতি এই ওপেনার। কক্সবাজারের মাঠে বৃষ্টির কারণে প্রথম দিন টসও করা যায়নি। গতকাল রবিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮০ ওভারে সিলেটের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৮০ রান।

মাহফিজুলের ২১৭*

বগুড়ায় চট্টগ্রামের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ১৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ময়মনসিংহের মাহফিজুল। গতকাল ইনিংসটা তিনি ২১৭ রান পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন। মাহফিজুল অবশ্য আউট হননি। ময়মনসিংহ ৭ উইকেটে ৪৬৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে মাঠ ছাড়তে হয় অপরাজিত থেকে। ৩৫১ বল খেলা ইনিংসে ছিল ২০টি চার ও ২টি ছক্কা। জাতীয় লিগের দলে যোগ দেওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের হয়ে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছেন মাহফিজুল। সেখানে অবশ্য ৮ বলে ৪ রান করে আউট হয়েছেন।

কোনো সেঞ্চুরি ছাড়া রংপুরের ৪০২

সিলেটের একাডেমি ৫ উইকেটে ৩২০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে সুবিধা করতে পারেনি রংপুর। আর মাত্র ৮২ রান যোগ করতে বাকি ৫ উইকেট হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করে আউট হন আবদুল্লাহ আল মামুন।

পরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে জাওয়াদ আবরারের উইকেট হারায় বরিশাল। দ্বিতীয় উইকেটে ৯৭ রান যোগ করেন রাফসান ও অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন। যেখানে রাফসানই ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়। দিনের ঘণ্টাখানেক সময় বাকি থাকতে আউট হন ৩৩ রান করা ইফতেখার। এরপর ফজলে মাহমুদকে নিয়ে সেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে যান রাফসান। তবে দিন শেষ হওয়ার আগের ওভারে বিলাসী ড্রাইভের চেষ্টায় উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন বাঁহাতি ওপেনার। ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬৮ বলে তিনি করেন ৮৯ রান।