ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারিপণ্য সংরক্ষণ, মিষ্টির সিরায় ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়া এবং উৎপাদিত পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতে না পারাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ‘পিওর সুইটমিট অ্যান্ড বেকারি’ নামে একটি কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নের বটতলী বাজারে অবস্থিত কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত ভট্টাচার্য। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানাটিতে খোলা অবস্থায় নোংরা পরিবেশে বেকারিপণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। চিনির গুঁড়া রাখা হয়েছিল অপরিষ্কার ও স্যাঁতসেঁতে বক্সে। এ ছাড়া কুকিজ তৈরির খামির খোলা, ঢাকনাবিহীন ও লেবেল ছাড়া অবস্থায় সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
কারখানাটিতে মিষ্টির ছানা নোংরা দেয়ালের পাশে পানি ঝরানোর জন্য রাখা ছিল। কেক তৈরির কাঁচামাল ও কেকের ছাঁটাই করা অংশও লেবেল ছাড়া সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত সিরায় ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়া যায়।
এসব অনিয়মের পাশাপাশি কারখানার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ব্যবহৃত কাঁচামালের ক্রয়চালান এবং উৎপাদিত সব পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, অভিযানে খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অভিযানে পাওয়া অসংগতিগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।