গুলিতে রক্ষা পেলেও শেষ রক্ষা হলো না ছাত্রদল নেতা শাকিলের

নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হামলার ১২ দিন পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার এলাকায় শাকিলের ওপর হামলা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি বাজারে অবস্থান করছিলেন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শাকিল দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় তারা।

স্থানীয় লোকজন শাকিলকে উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে আসে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে। তবে হামলাটি কারা এবং কী কারণে চালিয়েছিল—সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর এখনো মেলেনি।

এর আগে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানিয়েছিলেন, হামলার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

প্রকাশ্য বাজারে গুলি ছুড়ে পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার সেই ঘটনা এখন হত্যাকাণ্ডে রূপ নিল। বারো দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন শাকিল। তাঁর মৃত্যুর পর এখন আরও জোরালো হয়েছে প্রশ্ন—কারা ছিল হামলার পেছনে, আর কী কারণে তাঁকে লক্ষ্য করা হয়েছিল? সেই উত্তর খুঁজে বের করাই এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।