কওমি মাদ্রাসা নিয়ে বহুমাত্রিক গবেষণার তাগিদ

কওমি মাদ্রাসার বিষয়ে বহুমাত্রিক গবেষণার জন্য ফান্ড ও পৃষ্ঠপোষক জরুরি। বড় মাদ্রাস কর্র্তৃপক্ষ, বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ, ইসলামি রাজনৈতিক দল, ইসলামি সংগঠন কিংবা সামর্থ্যবান ইসলামি ব্যক্তিত্বরা এই কাজে ফান্ড দেবেন এবং পৃষ্ঠপোষকতা করবেন। গবেষণার কাজকে তারা যতদিন গুরুত্ব না দেবেন, পৃষ্ঠপোষকতা না করবেন, ফান্ড খরচ না করবেন, ততদিন নানা ধরনের প্রোপাগাণ্ডার শিকার হতে হবে। এসবের মোকাবিলায় গবেষণা জরুরি। গবেষণা হতে হবে নানা বিষয়ে।

মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা সওয়াবের কাজ, কিতাব রচনা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ, তদ্রƒপ গবেষণাও বৃদ্ধিবৃত্তিক কাজ। যা জাতিকে পথ দেখানোর পাশাপাশি সতর্ক করবে এবং ভবিষ্যৎ পথ নির্মাণ করবে।

গবেষণাও যে ইসলাম এবং মাদ্রাসাকেন্দ্রিক কাজ হতে পারে, তা নিয়ে সজাগ ও সচেতন হতে হবে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। বছর বছর একই কাজ, একই পদ্ধতিতে করে অর্থাৎ গৎ বাঁধা কাজ করে এ সময়ে এসে টিকে থাকা মুশকিল।

মাদ্রাসা পরিচালনা ও ভবন নির্মাণে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু বৃদ্ধিবৃত্তিক গবেষণার কাজে এক টাকাও খরচ না করা, এটা গুরুত্ব না দেওয়া বোকামি। পরীক্ষামূলক হলেও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের এ কাজে এগিয়ে আসা দরকার। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও ফান্ডিংয়ের অভাবে অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়ে গবেষণা করা সম্ভব হয় না। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মনে রাখতে হবে, ইসলামকে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, কওমি মাদ্রাসার অবদানকে তুলে ধরতে, আলেমদের মেহনতকে জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ ও কিতাব ক্রয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, এ জন্য অর্থ খরচ করতে কেউ ভাবেন না, তেমনি গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য অর্থ খরচের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। গবেষণা না হলে এক সময় আর মাদ্রাসা-মসজিদ প্রতিষ্ঠার মতো পরিবেশ মিলবে না।

লেখক : ইসলামি গবেষক