ডা. আসমা উল হুসনা
মেডিকেল অফিসার, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল
রক্ত আমাদের শরীরের অপরিহার্য উপাদান। আর রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা অন্যতম। যা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলে বা এর কার্যক্ষমতা কমা, বাধাপ্রাপ্ত হলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযাযী প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশনের ভূমিকা অপরিসীম।
single donor platelet বা platelet pheresis হলো একজন সুস্থ ব্লাড ডোনারের শরীর থেকে আধুনিক অ্যাফেরেসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু প্লাটিলেট সংগ্রহ করা।
অ্যাফেরেসিস হলো এমন একটি আধুনিক পদ্ধতি, যেখানে মেশিনের মাধ্যমে রক্তের একটি নির্দিষ্ট উপাদান যেমন অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট, প্লাজমা বা অন্য কোনো রক্তের উপাদান আলাদা করে সংগ্রহ করা এবং রক্তের বাকি উপাদান ডোনারের-এর শরীরে ফেরত পাঠানো হয়। এটি একটি ঝঃবৎরষব পদ্ধতি। একজন ডোনারের জন্য একটি নির্দিষ্ট ডিসপোবেল কিটস ব্যবহার করা হয়। প্রথাগত হোল ব্লাড থেকে এই আধুনিক অ্যাফেরেসিসের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। হোল ব্লাড -এর ক্ষেত্রে আগে ডোনার থেকে পরিমিত পরিমাণ রক্ত টেনে নেওয়া হয়। এতে রক্তের উপাদানগুলো মিলেমিশে থাকে এবং পরবর্তী সময় এই হোল ব্লাড থেকে বিভিন্ন মেশিনের মাধ্যমে রক্তের উপাদানগুলোকে আলাদা করা হয়। যেমন লালরক্ত বা আরসিসি, অণুচক্রিকা বা প্ল্যাটিলেট এবং প্লাজমা এবং যথাযথ ভাবে ভাবে সংরক্ষণ করা হয়। একজন মানুষের হোল ব্লাড থেকে যে পরিমাণ প্ল্যাটিলেট পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। সেক্ষেত্রে চারজনের থেকে ওপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে প্ল্যাটিলেট সংগ্রহ করা হয়। এভাবে সংগৃহীত প্ল্যাটিলেট -কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় র্যানডম ডোনার প্ল্যাটিলেট বলে।
SDP-তে একজন ডোনারের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ প্লাটিলেট পাওয়া যায়, ফলে একাধিক ডোনারের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা কমে যায়। তবে ঝউচ সংগ্রহে বিশেষ যন্ত্র ও কিট ব্যবহারের কারণে এর খরচ জউচ-এর তুলনায় অনেকটাই বেশি।
কোন কোন কারণে প্লাটিলেট দেওয়া হয়?
প্লাটিলেটের সংখ্যা খুব কমে গেলে : রক্তে প্লাটিলেট অনেক কমে গেলে, বিশেষ করে রক্তপাতের ঝুঁকি থাকলে।
ডেঙ্গু জ্বর : শুধু প্লাটিলেট কম হলেই ট্রান্সফিউশন করা হয় না; রোগীর রক্তপাত, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য পরীক্ষার ফল বিবেচনা করা হয়।
ক্যানসার ও কেমোথেরাপি : লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যানসার
অস্থিমজ্জার রোগ : যেমন অ্যাপ্লাস্টিকঅ্যানিমিয়া
অতিরিক্ত রক্তপাত :
SDP-এর ডোনার সিলেকশন এবং হোল ব্লাড এর ডোনার সিলেকশন প্রায় একই। তবে SDP ডোনারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়, যেমন প্লাটিলেট কাউন্ট, প্লাটিলেটের কার্যকারিতা, প্লাটিলেট-ইনহিবিটিং ওষুধ সেবনের ইতিহাস, ডোনারের বিরতি এবং ডোনারের পর প্লাটিলেট কাউন্ট।
অ্যাফেরেসিস পদ্ধতিতে ডোনার নির্বাচন থেকে শুরু করে যথাযথ স্ক্রিনিং ও ক্রস-ম্যাচিং সম্পন্ন করে ডোনারের শরীর থেকে প্লাটিলেট সংগ্রহ করা একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে।
অ্যাফেরেসিস প্লাটিলেট ডোনারের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অ্যাফেরেসিস পদ্ধতিতে প্লাটিলেট সংগ্রহের সময় ডোনারের কিছু সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন :
সুইয়ের স্থানে ব্যথা ঝিনঝিনে অনুভূতি বিশেষ করে শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে ঠোঁট ও আঙুলে ঝিনঝিনে অনুভূতি হতে পারে। মাথা ঘোরা বমি বমি ভাবঠান্ডা লাগা বা কাঁপুনি
তবে ভয়ের কিছু নেই। এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত সাময়িক। প্রশিক্ষিত মেডিকেল কর্মীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। কোনো অস্বস্তি অনুভব করলে ডোনারকে সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল কর্মীদের জানাতে হবে। আপনি যদি একজন Single Donor Platelet হতে চান এবং শারীরিকভাবে সুস্থ ও ডোনেশনের জন্য যোগ্য হন, তাহলে নিকটস্থ ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে যোগাযোগ করে ঝউচ ডোনার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারেন। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে অ্যাফেরেসিস-ভিত্তিক রক্তের উপাদান সংগ্রহের কার্যক্রম চালু রয়েছে। দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা নিরাপদ ও কার্যকর রক্তের উপাদান সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।