ডিমেনশিয়া তরুণরাও আক্রান্ত

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ এএম

ডিমেনশিয়া এমন এক অবস্থা যেখানে মানুষের স্মৃতি, চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা ও দক্ষতা ধীরে ধীরে কমে যায়। এটি একক কোনো রোগ নয়, বরং বিভিন্ন রোগের কারণে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিমেনশিয়া দেখা দেয়। একটা সময় ভাবা হতো এই রোগ শুধু বয়স্ক মানুষের মধ্যে দেখা দেয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো আজকাল তরুণরাও এই রোগে অনেক বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। লিখেছেন নিউরোলজিস্ট ডা. আদিবা ফেরদৌসী

ডিমেনশিয়া সাধারণত বয়সজনিত রোগ হিসেবে পরিচিত। অনেকের ধারণা কেবল বয়স্ক মানুষেরই এই সমস্যা। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। চিকিৎসকদের মতে, কম বয়সেও ডিমেনশিয়া দেখা দিতে পারে, যাকে বলা হয় ইয়াং-অনসেট ডিমেনশিয়া।

ডিমেনশিয়া কী

ডিমেনশিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষের স্মৃতি, চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজ করার দক্ষতা ধীরে ধীরে কমে যায়। এটি কোনো একক রোগ নয়; বরং বিভিন্ন রোগের কারণে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।

তরুণদের ডিমেনশিয়া কেন হয়

৪০ বা ৫০ বছরের আগেও ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে তাকে ইয়াং-অনসেট ডিমেনশিয়া বলা হয়। এর পেছনে জেনেটিক বা বংশগত কারণ, মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়া, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, স্নায়বিক রোগ, অ্যালকোহল বা মাদকাসক্তি, স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা, বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারাও তরুণদের মধ্যে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

লক্ষণ

তরুণদের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়ার লক্ষণ অনেক সময় ধরা কঠিন হয়। সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে বারবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া, কথা বলতে বা সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা, কাজের পরিকল্পনা করতে সমস্যা, আচরণ বা ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন, পরিচিত জায়গায়ও বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া।

চিকিৎসা

ডিমেনশিয়ার পুরোপুরি নিরাময় এখনো সম্ভব হয়নি, তবে সঠিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।

ওষুধের মাধ্যমে :  ডিমেনশিয়ার কিছু লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে Alzheimers disease-জনিত ডিমেনশিয়ায় কয়েক ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়। Donepezil, Rivastigmine, Galantamine, Memantine  এই ওষুধগুলো স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কিছুটা সময়ের জন্য স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

কগনিটিভ থেরাপি :  মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে বিভিন্ন মানসিক অনুশীলন করানো হয়। যেমন স্মৃতিশক্তির অনুশীলন, ধাঁধা বা পাজল সমাধান, বই পড়া বা নতুন কিছু শেখা, এ ধরনের অনুশীলন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

জীবনধারা পরিবর্তন :  স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ডিমেনশিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা।

সহায়ক চিকিৎসা :  অনেক সময় রোগীর মানসিক সমস্যা যেমন উদ্বেগ, বিষন্নতা বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং কাউন্সেলিং প্রয়োজন হতে পারে।

পরিবারের সহায়তা ও যত্ন : ডিমেনশিয়া রোগীর চিকিৎসায় পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ধৈর্য ও মানসিক সমর্থন রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত