শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ইনহেলার চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। বিশেষ করে হাঁপানি বা অ্যাজমায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বেশ কার্যকর। ইনহেলারের মাধ্যমে ওষুধ সরাসরি শ্বাসনালিতে পৌঁছায়, ফলে দ্রুত উপসর্গ কমাতে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
ইনহেলারের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৭৭৮ সালে ইংরেজ চিকিৎসক জন মাডজ কাশির চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য ইনহেলার তৈরি করেন। তবে বর্তমানে ব্যবহৃত আধুনিক পদ্ধতির ইনহেলারের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৬ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের রাইকার ল্যাবরেটরিজ প্রথম চাপযুক্ত মিটারডোজ ইনহেলার বাজারে আনে। এ আবিষ্কারের সঙ্গে জর্জ মেইসন, আরভিং পোরাশ ও চার্লস থিয়েলের নাম জড়িত। এরপর প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে ইনহেলারের ধরন ও কার্যকারিতায় পরিবর্তন এসেছে।
হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) এবং কিছু দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শে ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়। শিশু থেকে বয়স্ক বিভিন্ন বয়সের মানুষ ইনহেলার ব্যবহার করতে পারেন। ইনহেলার শ্বাসনালির সংকোচন কমাতে, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শ্বাসকষ্ট, বুক চেপে আসা ও শোঁ শোঁ শব্দের মতো উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। মুখে খাওয়ার ওষুধের তুলনায় এতে অনেক ক্ষেত্রে কম মাত্রার ওষুধ সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছানো সম্ভব হয়। ইনহেলারের ধরন, ব্যবহারবিধি ও ওষুধের মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা জরুরি।