নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম তিন ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যেই পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরেছিল ভারত। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে অকল্যান্ডের মাঠে তাই নতুনদের আরও সুযোগ দেওয়ার চমৎকার এক মঞ্চ প্রস্তুতই ছিল। কিন্তু চোট থেকে ফেরা ঈশান কিষাণকে একাদশে জায়গা দিতে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীকে দল থেকে ছেঁটে ফেলে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে সেই ম্যাচে হেরে যায় ভারত। সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও এমন একাদশ নির্বাচন এবং উদীয়মান তারকাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ কাইফ।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে চোট পাওয়া ঈশানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে নজর কেড়েছিলেন সূর্যবংশী। বিশেষ করে তৃতীয় ম্যাচে অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে মাত্র ৬ ওভারে দলের বোর্ডে ১১৮ রান তুলে দেওয়ার দুর্দান্ত তাণ্ডব চালিয়েছিলেন এই তরুণ।
অথচ ঈশান সুস্থ হতেই অকল্যান্ডে একাদশ থেকে বাদ পড়তে হয় তাকে। এতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তোপ দেগে কাইফ বলেন, ‘একজন উদীয়মান খেলোয়াড়ের জন্য এটি একেবারেই ভালো খবর নয়। সে নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যতের একজন সুপারস্টার এবং তার সামর্থ্য সবাই দেখেছে। যেকোনো খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ক্ষতিকর, এমনকি তিনি যদি কোনো অভিজ্ঞ বা প্রবীণ ক্রিকেটারও হন।’
তরুণ পেসার মায়াঙ্ক যাদব এবং প্রিন্স যাদবকে যদি ভারতীয় দল নিয়মিত সুযোগ দিয়ে গড়ে তুলতে পারে, তবে সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে কেন অন্য নিয়ম, এমন প্রশ্নও তুলেছেন কাইফ। ভুবনেশ্বর কুমারকে না রেখে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার যুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবেক এই ভারতীয় ব্যাটার তার ইউটিউব ভিডিওতে আরও যোগ করেন, ‘সিরিজ তো আগেই জেতা হয়ে গিয়েছিল, সেখানে বৈভবকে এই ম্যাচে খেলানোর সুযোগ ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করা উচিত ছিল। আপনারা ভুবনেশ্বরকে বাদ দিয়ে বলেছেন নতুনদের আনবেন। বৈভবও তো নতুন, তাকে কেন সেই একই সুযোগ দেওয়া হলো না? আপনারা যদি মায়াঙ্ক যাদব আর প্রিন্স যাদবকে গড়ে তুলতে পারেন, তবে সেই একই যুক্তিতে বৈভবেরও এই ম্যাচে খেলা উচিত ছিল।’
অন্যদিকে, ইনজুরি থেকে ফিরেই ঈশানকে সরাসরি একাদশে টেনে আনা এবং কিপিং করানোর সিদ্ধান্তকেও যুক্তিহীন মনে করছেন কাইফ। অকল্যান্ডের ম্যাচটি কোনো 'মরো অথবা বাঁচো' লড়াই ছিল না উল্লেখ করে কাইফ প্রশ্ন তোলেন, ঈশান যদি পূর্ণ ফিট না-ই থাকেন তবে তাকে খেলানোর এত তাড়াহুড়ো কেন? তার মতে, সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ঈশানকে আরও বিশ্রাম দিয়ে সূর্যবংশীর ওপর ভরসা রাখাটাই হতো বুদ্ধিমানের কাজ।
অবশ্য পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতেও একই পথে হেঁটেছে ভারত। এবারও একাদশে জায়গা পাননি সূর্যবংশী।