সহিংসতা ঠেকাতে কিশোরদের চ্যাটজিপিটিতে নতুন নিয়ম আনছে ওপেনএআই

কিশোরদের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকি কমাতে চ্যাটজিপিটিতে অস্ত্রসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিধি-নিষেধ আনছে ওপেনএআই। এখন থেকে কিশোর ব্যবহারকারীরা নিরীহ মনে হয় এমন প্রশ্ন করলেও অস্ত্র ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ব্যাবহারিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বে।

এই নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা জানিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানটি। বাস্তবজীবনে সহিংসতা প্রতিরোধ এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মে অস্ত্র ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কিত এমন তথ্য সীমিত করা হবে, যা অপব্যবহার করে ক্ষতি করা সম্ভব। শুধু কিশোরদের জন্য নয়, সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রেও সহিংসতা নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ বা বারবার এ ধরনের আলোচনা করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে চ্যাটজিপিটি।

কোনো ব্যবহারকারী সহিংসতা নিয়ে বারবার আলোচনা করতে থাকলে চ্যাটজিপিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কথোপকথন বন্ধ করতে পারবে। একই ধরনের একাধিক কথোপকথনের পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিতও করতে পারে ওপেনএআই।

এ ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে নিজেদের বয়স অনুমানব্যবস্থা আরো উন্নত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই ব্যবস্থায় যাদের বয়স ১৮ বছরের কম বলে ধারণা করা হবে, তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিশোরদের জন্য নির্ধারিত অভিজ্ঞতায় যুক্ত করা হবে।

কোনো কিশোর ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সহিংসতা নিয়ে বারবার আলোচনার কারণে স্থগিত করা হলে তার অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে ওপেনএআইয়ের।

অতীতের বড় ধরনের সহিংস হামলা সম্পর্কেও তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আনছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব ঘটনায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কিভাবে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কম দেওয়া হবে।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়ের সঙ্গে এসব নিয়ম আরো উন্নত করার কথাও জানিয়েছে ওপেনএআই।

এর আগে চলতি মাসে কিশোরদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ওপর প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে বলা হয়, কিশোর ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ১৫ মিনিটেরও কম সময় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে।

অন্যদিকে অলাভজনক সংস্থা কমন সেন্স মিডিয়ার চলতি মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিশোরদের জন্য তৈরি চ্যাটজিপিটির সংস্করণে আত্মহত্যা, আত্মক্ষতি বা খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা নিয়ে কথোপকথনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক করার প্রক্রিয়ায় ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দেরিতে পৌঁছায়, আবার কখনো পৌঁছায়ই না।