উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমতে থাকে। ত্বকের কোলাজেন প্রোডাকশন, ইলাস্টিসিটি ও হিলিং পাওয়ার কমে যাওয়ার কারণে ত্বক স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায়। বেশ কিছু উপায় জানা থাকলে ত্বক উজ্জ্বল ও স্বাভাবিক থাকবে।

 ত্বকের জন্য ক্ষতিকর যে অভ্যাস সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন: ঘাম, ধুলাবালি, ময়লা ভালোভাবে পরিষ্কার না করা, ময়লা ত্বক নিয়েই ঘুমাতে যাওয়া, সঠিকভাবে মেকআপ রিমুভ না করা, ডে টাইমে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই ও রিঅ্যাপ্লাইয়ে অনীহা, নখ দিয়ে একনে খোঁচানো  অভ্যাস বাদ দিন ।

রাতের বেলার পর্যাপ্ত ঘুম শুধু ত্বক নয়, বরং সম্পূর্ণ শরীরের ঘাটতি মেটাতেই অত্যন্ত প্রয়োজন। ঘুমের সময় ত্বকের কোষগুলো রিজেনারেট হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক নিজেকে সারিয়ে তোলে। প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ত্বক পেতে অধিক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা বাদ দিতে হবে।

বাইরের খাবারে থাকা অতিরিক্ত তেল-মসলা আমাদের হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। আর পাকস্থলীর কার্যক্রম ঠিক না থাকলে তার খারাপ প্রভাব সরাসরি ত্বকে এসে পড়ে। আমাদের হজম প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ত্বকে ইনফ্ল্যামেশন তৈরি করে একনে, পিম্পল, ত্বকে কালচে ভাব, মেছতার মতো সমস্যা তৈরি করে। তেলে ভাজা ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চিনি কোলাজেন ভেঙে ফেলে, কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং খুব দ্রুত চেহারায় বয়সের ছাপ ফেলে দেয়। তাই ঘন ঘন মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে কমিয়ে আনুন।

শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন এবং হেলদি ব্যালেন্সড ডায়েট মেনে চলুন। শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর মিনারেল, ফাইবার ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার পাশাপাশি ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল সরবরাহ করে থাকে। এর ফলে ত্বক তার তারুণ্য ধরে রাখতে পারে। প্রোটিনযুক্ত খাবার, চিয়া সিডস, বাদাম, পনির, টক দই ত্বক ও শরীর উভয় ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ত্বক পেতে এগুলোও ডায়েটে যুক্ত করার চেষ্টা করুন।

ফলমূলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ফাইবার, মিনারেল যা ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সারিয়ে তুলতে এবং কোষ রিজেনারেট করতে কার্যকরী। ফলমূল আমাদের ত্বকে কোলাজেন ঘাটতি কমাতে এবং ত্বককে টান টান ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে থাকে। তাই প্রতিদিন পছন্দের যেকোনো ফল খেতে পারেন।

ত্বক ভালো রাখতে ত্বকের ধরন অনুসারে সহজ বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন বেছে নিন। বেসিক স্কিন কেয়ারের জন্য ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং, ডে টাইমে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই ও রিঅ্যাপ্লাই, সপ্তাহে এক-দুদিন এক্সফোলিয়েশনই যথেষ্ট। প্রয়োজনে সিরামও প্রতিদিনের রুটিনে অ্যাড করতে পারেন।

ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো হাইড্রেশনের অভাব। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার চেষ্টা করুন সেই সঙ্গে খাদ্যতালিকায় পুষ্টিযুক্ত তরল খাবার রাখুন। ত্বক শুষ্ক হলে হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার, সিরাম বা টোনার ব্যবহার করুন।

অনেক প্রোডাক্ট একসঙ্গে ব্যবহার করতে যাবেন না, স্কিন কেয়ার রুটিন যতটা সম্ভব মিনিমাল রাখার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে কোনোটিই ত্বকে ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং ত্বকে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

সূর্যের আলোতে থাকা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই ডে টাইমে সানস্ক্রিনের পাশাপাশি রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা, স্কার্ফ ব্যবহার করুন। সরাসরি রোদ ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।