ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে দুই মানব পাচারকারীসহ আটক ৮

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে দুই মানব পাচারকারীসহ আটজনকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।

গত ২ নভেম্বর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর এলাকায় একটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) এসআরবি-৯-এর সিলেট সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯-এর সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে, সঞ্জরপুর এলাকার একটি বসতঘরে কয়েকজন ব্যক্তি বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আটজনকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মো. হারিছ আলী (৩৫) ও মো. আবুল আলী (৪৫) মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে জানা যায়। তাঁরা অপর ছয়জনকে কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিলেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ভারতে প্রবেশের কোনো বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।

আটক ব্যক্তিরা হলেন কুলাউড়ার সঞ্জরপুর এলাকার আব্দুল খালিকের ছেলে মো. হারিছ আলী (৩৫) ও মৃত সৈয়দ মুছব্বির আলীর ছেলে মো. আবুল আলী (৪৫); গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সীতারামপুর এলাকার হানিফ শরীফের ছেলে আমিনুর শরীফ (৪২) ও মৃত দবীর উদ্দিন শিকদারের ছেলে মো. মফিজুর শিকদার (৪৩); দিরাই এলাকার মোমরেজ মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা (৪৬); ভুলবাড়িয়া এলাকার মৃত আব্দুল হাসেম মোল্যার ছেলে ইয়ামিন মোল্যা (৪৫) ও মৃত সুশান্ত বিশ্বাসের ছেলে সুখলাল বিশ্বাস (৪১) এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালিবাতা এলাকার মৃত মো. এলেম সরদারের ছেলে মো. জিহাদ সরদার (৪০)।

এসআরবি-৯ জানায়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম ও মানব পাচারের চেষ্টার অভিযোগে The Bangladesh Passport Order, 1973-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে আটক আটজনকে কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।