কঠিন লড়াই শেষে আর্সেনাল-সিটির জয়

চ্যাম্পিয়নস লিগে আলাদা ম্যাচে স্নায়ুচাপের জয় তুলে নিয়েছে দুই ইংলিশ পরাশক্তি আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি। স্লাভিয়া প্রাগের তীব্র প্রতিরোধ ও শেষ মুহূর্তের চাপ সামলে ২-১ গোলের কষ্টে অর্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মিকেল আর্তেতারর দল। অন্যদিকে আরবি লাইপজিগের সঙ্গে তুমুল গোল লড়াইয়ের পর আর্লিং হালান্ডের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ৩-২ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিশ্চিত করেছে এনজো মারেস্কার ম্যানচেস্টার সিটি।

স্লাভিয়া প্রাগকে হারিয়ে আর্সেনালের জয়রথ

প্রাগের কনকনে ঠাণ্ডায় ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকে আর্সেনাল। ম্যাচের নবম মিনিটে ডেভিড রায়ার বাড়োনো লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত পাসে চেলসি থেকে আসা উইঙ্গার নোনি মাদুয়েকেকে গোলমুখী বাড়ান ভিক্টর গিয়োকেরেস। চমৎকার নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে গানারদের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মাদুয়েকে। 

প্রথমার্ধের ৩৮তম মিনিটে এবার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গিয়োকেরেস নিজেই। বক্সের ঠিক মুখে মিকেল মেরিনোর সঙ্গে চমৎকার ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ খেলে দূরপাল্লার কোণাকুণি শটে স্লাভিয়া গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই সুইডিশ স্ট্রাইকার।

তবে বিরতির পর পুরো উল্টো চিত্র দেখা যায় ম্যাচে। ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া স্লাভিয়া প্রাগ একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা করে ফেলে আর্সেনালের সুসংগঠিত রক্ষণভাগকে। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস জোড়া হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন এবং গোলরক্ষক ডেভিড রায়া অবিশ্বাস্য কিছু সেভ না করলে পয়েন্ট হারাতে হতো গানারদের। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে উইকটর নোভাক এক গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। এই হারের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ২৩ ম্যাচ জয়হীন থাকার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড ছুঁয়েছে স্লাভিয়া প্রাগ।

প্রথমার্ধে আধিপত্য দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধের এমন বাজে পারফরম্যান্সে ম্যাচ শেষে অসন্তোষ প্রকাশ করে আর্সেনাল কোচ আর্তেতা বলেন, ‘আমাদের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের দলগত মৌলিক নীতি ও মান থেকে আমরা অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিলাম। আমাদের যা যা এড়িয়ে চলার কথা ছিল, আমরা ঠিক সেগুলোই করেছি। এটি আমাদের জন্য বড় এক শিক্ষার ম্যাচ হয়ে থাকল।’

এনজো-হালান্ড চমকে লাইপজিগ বধ সিটির

জার্মানির মাটিতে সিটির রাতটি ছিল আক্রমণ আর রক্ষণের চরম নাটকীয়তায় ভরা। ম্যাচের মধ্যভাগে নিকো ও’রাইলির দ্রুতগতির ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন লাইপজিগ ডিফেন্ডার কাস্টেলো লুকোবা, যার সুবাদে ১-০ আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় সিটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সিটি গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মার মারাত্মক ভুলে সমতায় ফেরে লাইপজিগ। রাইডল বাকুর নেওয়া খুব একটা কঠিন না হওয়া শট ঠিকভাবে গ্রিপ করতে ব্যর্থ হন ইতালিয়ান এই গোলরক্ষক, বল তার হাত গলে গোললাইন অতিক্রম করে।

এরপর শুরু হয় দুপক্ষের গোলযুদ্ধ। এনজো ফার্নান্দেজের চমৎকার হেডে সিটি আবারও ২-১ গোলে এগিয়ে গেলেও লাইপজিগ ফরোয়ার্ড আন্তোনিও নুসা নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান। যখন ম্যাচ ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই সিটির কাঙ্ক্ষিত ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন হালান্ড। ইলিয়ট অ্যান্ডারসনের মাপা ক্রস বক্সে পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় স্লাইড করে বল জালে জড়িয়ে সিটির ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন নরওয়েজিয়ান এই গোলমেশিন।

ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের মাঠে এই জয়কে স্বস্তির উল্লেখ করে সিটির কোচ মারেস্কা বলেন, ‘আমরা যে দুটি গোল হজম করেছি, দুটিই ছিল এড়িয়ে চলার মতো। দোন্নারুম্মা প্রথম গোলের ক্ষেত্রে নিজের ভুল সম্পর্কে ভালোভাবেই জানে। তবে সব গুঞ্জন সরিয়ে এখন আমাদের নজর পরবর্তী লিগ ম্যাচের দিকে দেওয়া জরুরি।’ 

এদিকে ইউরোপের এই মঞ্চে ৬১ ম্যাচে ৬২ গোল করা জয়ের নায়ক হালান্ড নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘ম্যাচে আমি কতবার বল স্পর্শ করেছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আসল বিষয় হলো আমার শট দলকে জয় এনে দিতে পেরেছে এবং আমরা গুরুত্বপূর্ণ ৩টি পয়েন্ট অর্জন করেছি।’ 

সিটির পরের ম্যাচ প্রিমিয়ার লিগে নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে আগামী শনিবার। একই দিনে শীর্ষ স্থান মজবুত করতে আর্সেনাল খেলবে হাল সিটির বিপক্ষে।