চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম মৌসুমে নেমেই এক অবিশ্বাস্য নজির দেখাল ইতালিয়ান ক্লাব কোমো। সাবেক আর্সেনাল, বার্সেলোনা ও চেলসি তারকা সেস ফ্যাব্রেগাসের শিষ্যরা প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে যে তাণ্ডব চালাল, তা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের দীর্ঘ ইতিহাসে আগে কখনো দেখেনি ফুটবল বিশ্ব।
গতকাল বুধবার রাতে লঁসের ফরাসি গ্যালারি স্তব্ধ করে ৯-১ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে নিকো পাজরা। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সফরকারী দল হিসেবে কোনো ম্যাচে প্রথমবার ৯ গোল দেওয়ার অনন্য রেকর্ড এখন ফ্যাব্রেগাসের এই উদীয়মান দলের দখলে। এই ঐতিহাসিক জয়ে ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে লিগ পর্বের পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে উঠে এসেছে ইতালির এই ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিক লঁসকে চেপে ধরে ইতালিয়ান ক্লাবটি। সপ্তম মিনিটে গ্রীক ফরোয়ার্ড তাসোস দুভিকাসের সুনিপুণ ফিনিশিংয়ে লিড নেয় কোমো। ম্যাচের ৩২ মিনিটের মাথায় দলের দ্বিতীয় গোলটিও আসে তার কল্যাণেই।
এর আট মিনিট বাদেই ব্যবধান ৩-০ করেন বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমি পেরিয়ে আসা আর্জেন্টাইন তারকা নিকো। গোল করার পর উল্লাসে না মেতে তেনেরিফের প্রয়াত ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেলের ছবি সংবলিত টি-শার্ট উঁচিয়ে ধরে তাকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
বিরতির ঠিক পরপরই অধিনায়ক লুকাস দা কুনহা চার নম্বর গোলটি করেন। ৫৩তম মিনিটে মার্ক-অলিভার কেম্পফের হেডের পর দুভিকাস নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করে দলকে ৬-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ৬২তম মিনিটে বদলি নামা মাত্তিয়া লিবেরালি সাত নম্বর গোলটি করার পর লেন্সের রুবেন আগুইলার এক গোল শোধ করলেও তা কেবলই ব্যবধান কমায়। ৬৮তম মিনিটে মার্টিন বাতুরিনার ৮-১ করার পর যোগ করা সময়ে কোমো যুব দলের ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মাত্তেও পাপাচিওলি এক চোখধাঁধানো ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে ৯-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
সফরকারী দল হিসেবে ৯ গোল করার ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি ১৯৮২ পরবর্তী চ্যাম্পিয়নস লিগের যুগে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৯ গোল দেওয়ার রেকর্ড স্পর্শ করল কোমো। এছাড়া আট গোলের এই জয়ের ব্যবধানটি চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের (৮-০ বনাম বেসিকতাস, ২০০৭) ও রিয়াল মাদ্রিদের (৮-০ বনাম মালমো, ২০১৫) জয়কে স্পর্শ করেছে।
ঐতিহাসিক এই কীর্তির পরও অবশ্য শিষ্যদের মা মাটিতে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কোমো কোচ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফ্যাব্রেগাস বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য সব কিছুই আমাদের অনুকূলে ছিল। কোমো এবং আমাদের সমর্থকদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত রাত। আমরা অনেক তরুণ খেলোয়াড়কে নিয়ে এগোচ্ছি, তবে আমাদের পা মাটিতে রাখতে হবে, বিনয়ী হতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে। এটি এমন এক সাফল্য যা থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
এদিকে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখানো হ্যাটট্রিক হিরো তাসোস দুভিকাস উল্লাস চেপে না রেখে ম্যাচ শেষে জানান, ‘ইউরোপের প্রতিযোগিতায় নিজের এবং ক্লাবের প্রথম হ্যাটট্রিকটি এমন ঐতিহাসিক রাতে পাওয়া সত্যিই স্বপ্নের মতো। প্রতি ম্যাচে গোল করে দলকে সাহায্য করতে পারাই আমার বড় আনন্দ।’
বছর আটেক আগেও ২০১৮-১৯ মৌসুমে ইতালির চতুর্থ সারির লিগ সিরি ডি-তে খেলত কোমো। ইন্দোনেশিয়ান ধনকুবের হারতোনো ভাইদের মালিকানাধীন সেন্ট এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে আধুনিক পুনর্গঠন এবং ফ্যাব্রেগাসের ক্ষুরধার কোচিং স্টাইলে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তারা আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট তালিকায় পিএসজি ও বার্সেলোনার সমকক্ষ হয়ে নিজেদের বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছে।
লিভারপুলকে স্তব্ধ করে ১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে জয় ফেনারবাচের