গ্রীক ক্লাব এইকে এথেন্সের বিপক্ষে ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই লড়াইয়ে ফিরে ৩-২ ব্যবধানের এক অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। শেষ মুহূর্তের এই জয়ে নিজেদের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সামর্থ্যের আরও একটি প্রমাণ দিল স্প্যানিশ পরাশক্তিরা।
আর এই শ্বাসরুদ্ধকর প্রত্যাবর্তনের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রতিপক্ষ ও অন্যান্য কোচদের এক প্রকার চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো। ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে গিয়ে ম্যাচ বের করে আনার যে জাদুকরী ক্ষমতা রিয়ালের রয়েছে, তা বিশ্ব ফুটবলের আর কোনো দলের নেই।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও মানসিক শক্তির প্রশংসা করতে গিয়ে মরিনহো বলেন, ‘ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে গিয়ে ফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসা... এভাবে আমাদের মতো আর কেউ জিততে পারে না। এটি করার জন্য যে ধরনের মানসিকতা ও যোগ্যতা দরকার, তা কেবল আমাদেরই আছে।’
এদিকে প্রতিপক্ষ এইকে এথেন্সের ভূয়সী প্রশংসা করে মরিনহো জানান, তারা শুরু থেকেই অত্যন্ত সুসংগঠিত ফুটবল খেলে রিয়ালকে বেশ বিপদে ফেলেছিল। তবুও তার দল পিছিয়ে পড়েও খেই হারায়নি এবং কঠিন মুহূর্তগুলোতে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ রিয়াল বস। বেলিংহামের কার্যক্ষমতা ও সম্পূর্ণতা নিয়ে মরিনহো বলেন, ‘আমি আসার পর থেকেই ও দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। ও এক অনন্য খেলোয়াড়। বেলিংহামের মতো প্রতিটা ক্ষেত্রে এতটা পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার বর্তমান ফুটবল বিশ্বে আর একজনও নেই। কাজের প্রতি নিষ্ঠা, নেতৃত্ব গুণ, ক্ষুধা এবং বক্সে গিয়ে গোল করার যে ক্ষমতা ওর আছে, তা ওকে অসাধারণ করে তুলেছে।’
এছাড়া দলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মাঠের অবস্থান ও পারফরম্যান্স নিয়ে ওঠা প্রশ্নও খুব রসাত্মকভাবে সামলে নেন পর্তুগিজ কোচ। ভিনিসিয়ুসকে কীভাবে সামলাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে হেসেই মরিনহো উত্তর দেন, ৮০ শতাংশ ডান হাত আর ২০ শতাংশ বাঁ হাত দিয়ে, এতে তিনি আসলে বুঝাতে চেয়েছেন বেশিরভাগ সময় ভালোবাসা ও নমনীয়তা দিয়েই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে সামলাচ্ছেন তিনি।
একই সঙ্গে পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না পাওয়া উদীয়মান তারকা এনদ্রিকে হতাশা অনুধাবন করলেও, নিজের বিশ্বমানের স্কোয়াড ও বেঞ্চের গভীরতা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন রিয়াল কোচ। ডাগআউটে থাকা বিকল্পদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মরিনহো বলেন, ‘বিশ্বের অনেক কোচই আছেন যারা আমার দলের বেঞ্চের দিকে ইতিবাচক হিংসা নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। কারণ আমি যখন কোনো সংকটে পড়ে বেঞ্চের দিকে তাকাই, আমার সামনে অসংখ্য মানসম্মত অপশন ভেসে ওঠে। খেলোয়াড়রা যখন ব্যক্তিগত চাওয়া বাদ দিয়ে দলের জন্য খেলে, তখন এই দলটাকে রোখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এসে আসন্ন ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচের কথা মাথায় রেখে একাদশে রোটেশন বা বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
ভালভার্দের শেষের গোলে রিয়াল মাদ্রিদের নাটকীয় জয়